নাইকো দুর্নীতিঃ খালেদা জিয়াকে আদালতের সমন

7
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
নাইকো দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (০১ ফেব্রুয়ারি) কেরাণীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ঢাকার নবম বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন।

এদিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হননি। এজন্য খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার সময় আবেদন করেন। একইসঙ্গে খালেদা জিয়াকে নাইকো মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে তারা আবেদন করেন।  

আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য করেন। ওই দিন সব আসামিকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন আদালত। খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া এ তথ্য জানান।  

মামলার নথি থেকে জানা যায়, কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন সহকারী পরিচালক তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।  

২০১৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।  

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তৎকালীন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন মুখ্য সচিব কামাল উদ্দীন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ৷ 

এর মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনের মৃত্যু হওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।  

দুদকের করা অপর দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। সেখান থেকে পরে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ই সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে তিনি গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন।