বইমেলা: ৩৬ বছরের ধারাবাহিকতায় ছেদ

46
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ করস্পন্ডেন্ট, ঢাকা:
৩৬ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারই প্রথম ছেদ পড়ল। ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে অমর একুশে গ্রন্থমেলা হচ্ছে মার্চ-এপ্রিলে।

বাংলা একাডেমি বলছে, করোনা মহামারির কারণেই এই সিদ্ধান্ত। প্রকাশকরা বলছেন, পরিবর্তিত সময়ে মেলা আয়োজনে ভিন্নতা আসবে। করোনায় সৃজনশীল প্রকাশনা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন, মেলার আয়োজন জরুরি ছিল।

ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিনে বাংলা একাডেমির অলস চত্ত্বর। বই মেলার পরিবর্তিত সময় ১৮ই মার্চ থেকে ১৪ই এপ্রিল- তাই একাডেমিতে ব্যস্ততাও নেই। 

বাংলা একাডেমি বলছে- মেলায় মানুষের ভিড় হবে তা স্বাভাবিক। তাই এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলা করাটাই প্রধান চ্যালেঞ্জ। তারপরেও আশা জীবন্ত থাকুক বাঙালির প্রাণের মেলা। 

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাসকে বাদ দিয়ে কখনো মেলা হয়নি, সেটি হতে যাচ্ছে। সবাইকে নিয়ে চাই একটি ভাল বইমেলা করতে। ভাল এই অর্থে- আমরা করোনাকালে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বইমেলা করতে চাই।”  

প্রকাশকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাঙ্গালীরা উৎসবের মধ্যে থাকে।  তাই এবারের বইমেলাতেও প্রাণ থাকবে বলে আশা তাদের।  

সময় প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ বলেন, “মার্চ হল স্বাধীনতার মাস। এই মার্চ মাসে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ মিনার এসব যায়গায় একটা সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল তৈরি হয়। আবার এপ্রিল মাসেও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে একটা আবহ তৈরি হয়।”   

অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলছেন-  করোনায় সৃজনশীল প্রকাশনাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “এই মেলাকে কেন্দ্র করে বইয়ের লেখক-প্রকাশক এক বছর অপেক্ষা করেন। আর করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সৃজনশীল প্রকাশকরা। এমন পরিস্থিতিতেও যে মেলা হচ্ছে এটাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।”  

বাংলা একাডেমি বলছে, করোনায় এবার স্টল ব্যবস্থাপনা এবং মেলায় স্বাস্থ্যবিধি গুরুত্ব পাবে।