শিশু চলচ্চিত্র উৎসব শুরু; প্রবেশের টিকিট ‘মাস্ক’

4
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’ স্লোগান সামনে রেখে ঢাকায় শুরু হয়েছে ১৪তম ‘আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব-২০২১’। এবারের উৎসবে ঢাকার মোট তিনটি ভেন্যুতে ৩৭টি দেশের ১৭৯টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে শাহবাগের কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে উদ্বোধনী সঙ্গীত, জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা উত্তোলন ও শান্তির পায়রা উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মোরশেদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে এমন একটি উৎসাহ-উদ্দীপনাপূর্ণ আয়োজন সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। দেশমাতৃকাকে এগিয়ে নিতে এই শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বড় অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি। তথ্য মন্ত্রণালয় সর্বদা এমন আয়োজনের পাশে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আমি অনুরোধ জানাব, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের কীভাবে গড়ে তোলা যায়, সেটির একটি পরিকল্পনা করা এবং আগামী প্রতিযোগিতায় সে পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজানো। তাহলে এই চলচ্চিত্র উৎসবটা শুধু উৎসব নয়, শিশুদের জীবন গড়ায় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য ফিল্ম সোসাইটিসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনে আগামীকাল রোববার থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিনেমা প্রদর্শিত হবে। এতে বেলা ১১টা, দুপুর ২টা, বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬টায় মোট চারবার চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এবারের উৎসবে ঢাকার মোট তিনটি ভেন্যুতে ৩৭টি দেশের ১৭৯টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। প্রতিটি প্রদর্শনীতে একাধিক চলচ্চিত্র দেখানো হবে।

সিনেমা দেখার জন্য কোনো ধরনের প্রবেশমূল্য না থাকলেও এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে মাস্ক পরিধানকে চলচ্চিত্র উৎসবের টিকিট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পুরো উৎসবটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রদত্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উৎসবটির পরিচালক ফারিহা জান্নাত মিম।

উৎসবটির অন্যতম আকর্ষণীয় বিভাগ হিসেবে থাকছে বাংলাদেশি শিশুদের নির্মিত প্রতিযোগিতা বিভাগ। এই বিভাগে ৬১টি চলচ্চিত্রের মধ্যে নির্বাচিত ১৯টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে, এই ১৯টি চলচ্চিত্রের পাঁচটি চলচ্চিত্র পুরস্কার পাবে। ইয়ং বাংলাদেশি ট্যালেন্ট শীর্ষক বিভাগে ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ নির্মাতারা অংশ নিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রয়েছে মুক্তির চলচ্চিত্র শিরোনামে বিশেষ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বিভাগ। একইসঙ্গে রয়েছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগ, এ বিভাগে জমা পড়েছিল ৮১টি দেশের ১ হাজার ১১৬টি চলচ্চিত্র, যার মধ্যে উৎসব কমিটির দ্বারা প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশসহ অন্যান্য ৩৭টি দেশের মোট ১১৬টি চলচ্চিত্র।

এছাড়া উৎসবে প্রতিনিধিদের জন্য বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এবার মোট চারটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মশালায় পরিচালনা ও সিনেমাটোগ্রাফির ওপর ক্লাস নেবেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী ও তাহসিন রহমান। এছাড়া স্ক্রিপ্ট রাইটিংয়ের ওপর ক্লাস নেবেন সাদিয়া খালিদ রীতি, প্রোডাকশন ডিজাইনের ওপর রঞ্জন রাব্বানী, ফেস্টিভ্যাল সার্কিট সম্পর্কে ক্লাস নেবেন আবু শাহেদ ইমন। ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে সাতদিনের এই চলচ্চিত্র উৎসব।