দেশে ঈদের মতো খুশিতে টিকা গ্রহণ চলছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

21
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভ্যাকসিন হিরো। তিনিই দেশে এই কার্যক্রম শুরু করেছেন। টিকা কার্যক্রমে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। ঈদের মতো খুশিতে টিকা গ্রহণ চলছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের এখন শত শত মানুষ টিকা নিয়েছেন, তাদের মাঝে এখন পর্যন্ত কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। আশা করি, সামনেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে না। ভালো টিকাই আমাদের দেশে এসেছে। টিকা জীবন রক্ষাকারী। সুতরাং, এই টিকা নিয়ে গুজব ছড়াবেন না।’ যারা করোনার টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তারা দেশের মানুষের মঙ্গল কামনা করেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘পৃথিবীতে যত টিকা আবিষ্কার হয়েছে, তার মধ্যে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকা সবচেয়ে নিরাপদ। এই টিকায় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।’

দেশবাসীর উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নির্ভয়ে টিকা নিন, টিকা পরবর্তী যা করণীয়, তা করা হবে। আপনারা ভয় পাবেন না। এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের একজন সদস্য টিকা নিয়েছেন। অনেক সচিবও নিয়েছেন। আপনারা আশ্বস্ত থাকুন। যারা এখন পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন, তাঁরা সুস্থ আছেন।’

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নভেল করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বিএসএমএমইউয়ে স্থাপিত বুথে নিজে এসে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে টিকা নেন পলক। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের মধ্যে তিনিই প্রথম করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়েছেন।

এছাড়া আজ দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে টিকা নিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

এর আগে বিএসএমএমইউতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে টিকা প্রদান শুরু হয়। এরপর সেখানে প্রথম টিকাটি নেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

টিকা নেওয়ার পর অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘টিকা নেওয়াটা আমার সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব। আমাকে দেখে মানুষ আস্থা পাবে, সাহস পাবে। এখানে আজ অনেক লোক জড়ো হয়েছেন। গতকাল (বুধবার) পর্যন্ত মানুষের মনে সংশয় ছিল টিকা নেবেন কি না। সংশয় কেটে যেতে শুরু করেছে। আমরা এটাই চাই।’

টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বিপরীত পাশে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে করোনার টিকা প্রদানে চারটি বুথ সাজানো হয়েছে। টিকাদানের জন্য কয়েকটি শয্যাও বসানো হয়েছে। টিকাদান নিবন্ধনের জন্য বেশ ভিড়ও দেখা করা গেছে। করোনান ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর পাঁচ হাসপাতালে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো—ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।

এর আগে গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে করোনার টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঁচজনকে টিকা দেওয়া হয়। দেশে প্রথম করোনার টিকা নেন কুর্মিটোলা হাসপাতালের সেবিকা রুনু ভেরোনিকা কস্তা।