গাড়ির নিচে ‘বোমা’ বেঁধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

10
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট:
অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে এক ব্যক্তিকে বলা হয় তার পরিবারের সামনে ভয়াবহ বিপদ। তার ব্যবহৃত গাড়িতে বেঁধে রাখা হয়েছে শক্তিশালী বোমা। দাবি করে মোটা অঙ্কের চাঁদা। সম্প্রতি এমন অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, চলতি মাসের ১১ তারিখে রাজধানীর গুলশানের ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন ঢালীর কাছে একটি ফোন আসে। পরিবারকে বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে দাবি করা হয় ২০ লাখ টাকা। প্রথমে বিষয়টি পাত্তা না দিলেও আবারো একই নম্বর থেকে ফোন এলে পরের দিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। থানায় যাওয়ার পথে বাড়ির এক নিরাপত্তা কর্মী গিয়াস উদ্দিন ঢালীর গাড়ির ফুয়েল ট্যাংকারের নিচে লাল টেপ দিয়ে বাঁধানো একটি বস্তু দেখতে পান।

ভুক্তভোগী গিয়াসউদ্দিন ঢালী বলেন, ‘আমাকে ফোন দিয়ে বলে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে। না দিলে আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে। আমার ড্রাইভার আমাকে ফোন করল গাড়ির নিচে বোমের মতো কিছু একটা দেখা যাচ্ছে।’

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট দ্রুত ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। ধারণা করা হয় গাড়িটিতে শক্তিশালী বোমা বেঁধে রেখেছে কেউ। পরে বোমাসদৃশ্য বস্তুটি গাড়ি থেকে অপসারণ করার পর তা নিষ্ক্রিয় করা হয়। পুলিশ দেখতে পায় কয়েকটি ব্যাটারি, তার আর টেপ ছাড়া কোনো ক্ষতিকারক উপাদান নেই এতে।

এই ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ১৭ বছরের কিশোর ঈমান আলীকে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করাই ছিল তার উদ্দেশ্য।

ঈমান আলীর বাবা ১৩-১৪ বছর ধরে ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন ঢালীর মুন্সীগঞ্জের গ্রামের বাড়ি দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত। ছেলের এই কাণ্ডে অবাক তার বাবাও।

ঈমান আলীর বাবা শহীদ আলী বলেন, ‘আমার বস ফেরেশতার মতো মানুষ। তার সঙ্গে আমার ছেলে এ কাজ করবে, তা আমি জীবনেও চিন্তা করি নাই। এই ঘটনা শোনার আগে আমার মরণ হইল না কেন।’

পুলিশ বলছে, নকল বোমা উদ্ধারের ১২ দিন আগে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন মুন্সিগঞ্জে যান। সুযোগ বুঝে ঈমান আলী গাড়িতে কথিত বোমাটি বেঁধে রাখেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘ঈমান আলীর মাথায় কুকৌশল এল যে, মালিককে ফোন দিয়ে ভয় দেখালে অনেক টাকা চাঁদাবাজি কার যাবে। সে জন্য সে অন্য আরেকজনের কাছ থেকে একটা মোবাইল ধার নিয়ে এ কাজটা করে।’

ভুক্তভোগীর ছেলের দাবি এই ঘটনার সঙ্গে নিশ্চয়ই অন্য কেউ জড়িত আছে।