আইজিপির সই জাল করে টিপু মিয়ার অভিনব চাঁদাবাজি

18
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
উচ্চ মাধ্যমিক ফেল করা টিপু মিয়া ওরফে মমিনুল হক (৩৫) টিএম ট্রেডার্স নামের একটি কোম্পানিতে চাকরি করতো। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি আদান-প্রদানের সুযোগে এক অভিনব প্রতারণার কৌশল রপ্ত করে সে। পরে চাকরি ছেড়ে দিয়ে প্রতারকই বনে যায় টিপু মিয়া।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিবসকে সামনে রেখে ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট ছাপানোর জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা চেয়ে সে চিঠি পাঠাতো। আর এজন্য পুলিশের লোগো ও প্যাডে মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) উচ্চপদস্থদের নাম ও সই ব্যবহার করতো। দীর্ঘদিন ধরে এই অভিনব উপায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা আদায় করে আসছিল টিপু মিয়া।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন।

সম্প্রতি সাউথ-ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আইজিপি পরিচয়ে টাকা চেয়ে চিঠি পাঠায় টিপু মিয়া। সাউথ-ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইজিপির কাছে বিষয়টি জানালে এটি প্রতারণা বলে নিশ্চিত হন।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে প্রতারক টিপু মিয়াকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) আব্দুল বাতেন বলেন, প্রতারণার জন্য টিপু মিয়া আইজিপিসহ পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে আসছিল। পুলিশের লোগোসহ ভুয়া প্যাডে নিজেই কর্মকর্তাদের সই করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে টাকা চেয়ে চিঠি পাঠাতো।

পুলিশ সপ্তাহ, শোক দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে লিফলেট, ব্যানার, ফেস্টুন প্রকাশের জন্য সে বিভিন্ন পরিমানে অর্থ হাতিয়ে নিতো। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়ে ফোনে টাকা প্রদানের জন্য চাপ প্রয়োগ করতো, টাকা দিতে রাজি না হলে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করতো।

আব্দুল বাতেন আরও বলেন, টিপু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অভিনব পন্থায় প্রতারণা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিলো। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।