স্ত্রী ছেড়ে যাওয়ায় এক এক করে ১৮ নারীকে খুন

36
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক রিপোর্টঃ
একজন বা দু’জন নয় মোট ১৮ জন নারীকে খুনের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। তা সত্ত্বেও জেলের বাইরে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন এক সিরিয়াল কিলার। ভারতের হায়দরাবাদের সেই সিরিয়াল কিলারকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খুন ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও কিছু অপরাধের অভিযোগও রয়েছে।

রাচাকোণ্ডা পুলিশ এবং নর্থ জোন কমিশনারের টাস্কফোর্সের কর্মকর্তাদের যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার মাইনা রামুলু নামের ৪৫ বছর বয়সী ওই সিরিয়াল কিলারের সন্ধান মেলে। রামুলুর বিরুদ্ধে ২১টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ১৬টি খুনের মামলা, ৪টি সম্পত্তি সংক্রান্ত জালিয়াতি এবং পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো মামলাও ছিল।

রামুলুর বিরুদ্ধে যে ১৬টি খুনের মামলা ছিল তাতে নিহতরা সবাই নারী। সেই মামলায় আদালতে দোষী সাব্যস্তও হওয়ার পরেও তেলঙ্গানা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে জেলের বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয় সে। সম্প্রতি সিদ্দিপেট কমিশানেরেটের অন্তর্গত মুলুগু থানা এবং গটকেশ্বর থানায় নতুন করে দাখিল হওয়া ২টি খুনের মামলায় তার নাম উঠে আসে। এরপরেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হায়দরাবাদ সিটি পুলিশের কমিশনার অঞ্জনি কুমার জানিয়েছেন, গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল থেকে স্ত্রী নিখোঁজ বলে গত ১ জানুয়ারি এক ব্যক্তি অভিযোগ জানান। তল্লাশি চলাকালীন ৪ জানুয়ারি রেললাইনের কাছ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার আগে সাইবারাবাদের বলানগরেও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ২টি ঘটনাতেই রামুলুর যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারপর থেকেই তার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়।

অঞ্জনি কুমার জানিয়েছেন, সাঙ্গা জেলার আরুতলা গ্রামের বাসিন্দা রামুলু ২১ বছর বয়সে বাবা-মায়ের পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর কয়েক দিন পেরোতে না পেরোতেই স্ত্রী অন্য পুরুষের সঙ্গে পালিয়ে যান। সেই থেকেই নারীদের প্রতি তার মনে বিদ্বেষ জন্ম নেয়।

যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে নারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতো সে। তারপর নেশা করিয়ে ওই নারীদের খুন করত। খুন করে নিহতদের টাকা, গয়না এবং মূল্যবান জিনিসপত্র আত্মসাৎ করত বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ১৮ জন ছাড়াও রামুলু আর কোনও খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে কি না তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।