কাপড় না সরিয়ে গায়ে হাত দেওয়া ‘যৌন নির্যাতন’ নয়: মুম্বাই সুপ্রিম কোর্ট

16
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
ভারতের একটি আদালত রায় প্রদান করে বলে বলেছে, কাউকে কাপড়ের ওপর দিয়ে শরীরে হাত দিলে তা যৌন নির্যাতন হিসেবে বিবেচিত হবে না। দেশ জুড়ে যখন অধিকারকর্মীরা যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রচারনা চালাচ্ছে, তখন উচ্চ আদালত থেকে এই রায় এলো।

গত সপ্তাহে আলোচিত ওই রায়ে মুম্বাই হাইকোর্টের বিচারপতি পুষ্প গানেদিওয়ালা ৩৯ বছর বয়সী এক পুরুষের দ্বারা ১২ বছর বয়সী এক শিশুর বিরুদ্ধে হওয়া যৌন নিপীড়নের অভিযোগ বাতিল করে দেন। রায়ে তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে কাপড় খুলেনি অর্থাৎ ‘স্কিন অন স্কিন’ কন্ট্যাক্ট হয়নি।

কোর্টের ভাষ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালে লোকটি পেয়ারা খাওয়ানোর কথা বলে তার বাড়িতে এনে মেয়েটির স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং তাকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করে। এই অপরাধের দায়ে নিম্ন আদালত থেকে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

গত ১৯ জানুয়ারির রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারক পুষ্প গানেদিওয়ালা দেখান যে তার অপরাধ সংজ্ঞা অনুযায়ী ঘটনাটি যৌন নিপীড়নের মধ্যে পড়ে না বিধায় অভিযুক্তের ৩ বছর থেকে ৫ বছরের জেল হতে পারে।

রায়ে তিনি লেখেন, আদালতের মতে কোনো অপরাধে কঠোর শাস্তির জন্য গুরুতর অভিযোগের প্রয়োজন।

ভারতে শিশুদের যৌন সুরক্ষা আইন ২০১২তে স্পষ্টভাবে বলা নেই যে, যৌন নির্যাতনের অপরাধ গঠনের জন্য ‘ত্বক-ত্বকের সংযোগ’(skin-on-skin contact) প্রয়োজন আছে কি নেই।

বিচারপতি গানেদিওয়ালা যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আসামিকে খালাস দিলেও শ্লীলতাহানির অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

রায়ে তিনি বলেন, এটি ফৌজদারী আইনের মূল নীতি যে, কোনও অপরাধের শাস্তি অপরাধ-গুরুত্বের সঙ্গে সমানুপাতিক হবে।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর ভারত জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী করুনা নন্দি বলেন, এমন রায় ‘প্রতিষ্ঠিত আইনের সম্পূর্ণ বিরোধী’ এবং মৌলিক মানবাধিকারের জন্য হুমকির।

ভারতের নারীদের আইনি সহায়তা প্রদানকারী সেন্টার ফর সোশ্যাল রিসার্চের পরিচালক রঞ্জনা কুমারী বলেন, এই রায় লজ্জাজনক, আপত্তিকর, জঘন্য এবং বিচারিক বিচক্ষণতাহীন। সূত্র: সিএনএন