দাদার স্বপ্ন পূরণ করতে গার্মেন্টস কর্মীর হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে!

12
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
প্রবাদে আছে ‘শখের তোলা আশি টাকা’। সেই কথা বাস্তবেও রূপ দিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাহেরচর গ্রামের আকতার হেসেনের ছেলে ফারুক মিয়া। দারিদ্র্যতার মাঝেও প্রয়াত দাদা মুনতাজ মিয়ার স্বপ্নপূরণ করতেই হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করেন তিনি।

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নালাদক্ষিন গ্রামের কামরুল হোসেনের মেয়ে শাহনাজের সঙ্গে বিয়ে হয় ফারুকের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দরিদ্র পরিবারের সন্তান ফারুক। নিজেরও তেমন কিছু নেই। তারপরও বিয়ে করেছেন হেলিকপ্টারে চড়ে। অভাব অনটন থাকলেও দাদার স্বপ্নপূরণ করতেই হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করার এই শখ বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। হেলিকপ্টারের বিয়ের ঘটনায় এলাকার সবাইকে রীতিমতো চমকে দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের আকতার হেসেনের ছেলে ফারুক তার বোন জামাই, তিন বড় বোন ও ভাগ্নিকে নিয়ে হেলিকাপ্টার করে বিয়ে করতে যান কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নালাদক্ষিণ গ্রামে। হেলিকপ্টারের বর দেখতে এলাকার শতশত উৎসুক নারী-পুরুষ ভিড় করেন। এছাড়া, নৌ-পথে দু’শ জন বরযাত্রী কনের বাড়িতে যান।

ফারুক সাংবাদিকদের জানান, ‘তিনি নারায়নগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। করোনার কারণে চাকরি চলে যায় তার। তবুও দাদার ইচ্ছা আর তার স্বপ্ন পূরণ করতেই হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে। এ জন্য, রাজধানী থেকে এক লাখ ৪৫ হাজার টাকায় হেলিকপ্টারটি ভাড়া করেছেন বলেও জানান তিনি।

ফারুকের শ্বশুর কৃষক কামরুল হোসেন জানান, আমি গর্বিত, জামাই হেলিকপ্টারে করে আমার মেয়েকে নিতে এসেছে। এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে।

ফারুকের বাবা আকতার হোসেন জানান, তার পাঁচ মেয়ে সন্তানের পর এক ছেলে সন্তান হয়েছে। তার বাবার শখ ছিল নাতিকে হেলিকপ্টারে করে বিয়ে করানো। মূলত দাদার শখ পূরণ করতেই অভাব অনটনের মধ্যেও ফারুক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, টাকা পয়সা দিয়ে কি হবে? আমার ছেলে আনন্দ করেছে এতেই আমরা খুশি।