বৃদ্ধাকে নির্যাতন করে স্বর্ণালংকার-টাকা লুট; সেই গৃহকর্মী রেখা ৮ দিনের রিমান্ডে

11
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
রাজধানীর মালিবাগে সত্তরোর্ধ্ব এক গৃহকর্ত্রীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের পর স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের ঘটনায় গৃহকর্মী রেখাকে (২৮) আট দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ উর রহমান আজ শুক্রবার এই আদেশ দেন।

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব এ নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামি রেখাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আট দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

গত বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর রেখা পুলিশের কাছে দাবি করেন, স্বামী ফরহাদ হোসেনের নির্দেশে তিনি ওই গৃহকর্ত্রীকে মারধরের পর টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই করেন। এই টাকা ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করে তিনি বিদেশ যেতে চান বলেও জানিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম গতকাল বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানিয়েছেন। গত সোমবারের ওই নির্যাতনের ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার শাহজাহানপুর থানায় একটি মামলা করা হয়।

মামলার পর রেখাকে খুঁজতে থাকে পুলিশ। এর মধ্যে তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রেখার অবস্থান জানার পর শাহজাহানপুর থানার যে দল ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও গিয়ে রেখাকে গ্রেপ্তার করে, রেজাউল করিম সে দলের নেতৃত্বে ছিলেন।

গত সোমবার সকাল সোয়া ১০টার রাজধানীর মালিবাগের ফাঁকা বাসায় সত্তরোর্ধ্ব ওই গৃহকর্ত্রীকে নির্যাতন ও লুটপাট করেন গৃহকর্মী রেখা। পুরো দৃশ্য রেকর্ড হয় ঘরে থাকা সিসিটিভির ক্যামেরায়। ওই সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশ করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর। এর পরই ইন্টারনেটে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বছর তিনেক ধরে কিডনিসহ নানা সমস্যায় ভোগা বৃদ্ধা শুয়ে আছেন বিছানায়। পরম যত্নে তার সেবা করছেন গৃহকর্মী রেখা। এরপরই দেখা যায় রেখার ভয়ংকর রূপ। তিনি বৃদ্ধাকে বিবস্ত্র করে তাকে জোর করে বাথরুমে ঢোকান। শীতের সকালে বৃদ্ধার গায়ে ঢালা হয় ঠাণ্ডা পানি। কিন্তু ভেতরে বৃদ্ধাকে আটকাতে না পেরে বেরিয়ে আসে রেখার আসল চেহারা।

যে লাঠিতে ভর করে বৃদ্ধা চলাফেরা করতেন সেই লাঠি দিয়েই তাঁকে মারতে শুরু করেন রেখা। একের পর এক আঘাতে বৃদ্ধা মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও থামেননি রেখা। মাথায়ও আঘাত করেন। একপর্যায়ে হাতের কাছে যা পেয়েছেন তা দিয়েই চালিয়েছেন নির্যাতন। আলমারির চাবির জন্য বুকের ওপর পা তুলে দেন রেখা। বঁটি হাতেও তেড়ে যান। একসময় অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করেন বৃদ্ধা। গলা থেকে চেইন খুলে নিজের গলায় পরে নেন রেখা। হাতের বালাও পরেন।

চাবি দিয়ে আলমারি খুলতে ব্যর্থ হন রেখা। তার পরই অসুস্থ বৃদ্ধাকে টেনে নিয়ে বাধ্য করেন আলমারি খুলে দিতে। ড্রয়ার খুলে স্বর্ণ, টাকা ও মোবাইল ফোন নিজের কব্জায় নেন রেখা। সবকিছু ব্যাগে ভরে বৃদ্ধাকে বাসায় তালা মেরে দেন তিনি। পরে বাসার গেট খুলে ব্যাগসহ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

ব্যবসায়িক কাজে বৃদ্ধার ছেলে ঢাকার বাইরে গেলে এই ঘটনা ঘটান গৃহকর্মী রেখা।