দ্বিতীয় ম্যাচেই কিংবদন্তি রাইস উদ্দিনকে শ্রদ্ধা জানাবে বিসিবি

13
Print Friendly, PDF & Email

স্পোর্টস নিউজ ডেস্কঃ
রাইস উদ্দিন আহমেদ- বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি প্রায় অপরিচিত, এখন যারা ক্রিকেট নিয়ে মহা উৎসাহী তাদের বড় অংশ রাইস উদ্দিনকে সেভাবে চেনেন না। তার সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের ক্রিকেটের সূর্যসন্তান রকিবুল হাসানের চোখে রাইসউদ্দিন আহমেদ হলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ, একাই ইতিহাস। দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অভিভাবক, স্থপতি।

তার প্রয়ান যেন একটি ধারার ইতি। বুধবার (২০ জনুয়ারি) সকালে ৮২ বছর বয়সে চির বিদায় নিয়েছেন তিনি।

স্বাধীনতার পর ৪৫ বছর আগে ক্রিকেট বোর্ড ছিল জীর্ণ কুটির। সে সময় ক্রিকেট বোর্ড ছিল রীতিমতো তলাবিহীন ঝুড়ি। নিজস্ব আয় বলতে কিছুই ছিল না। জাতীয় পরিষদ তথা সরকারের বার্ষিক বরাদ্দ দিয়েই পরিচালিত হতো নানা কর্মকান্ড। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারায় রাতের বেলায় ‘মোমবাতি’ জ্বালিয়ে বোর্ডের কাজ পরিচালনা করতে হয়েছে।

তখন যারা ‘মোমবাতি’ জ্বালিয়ে কাজ করে ক্রিকেটকে আলোকিত করার স্বপ্ন দেখেছেন, বিশ্ব পরিমন্ডলে ক্রিকেটকে এগিয়ে নেয়ার সংকল্প নিয়ে কাজ করেছেন- তাদের অন্যতম একজন রাইসউদ্দিন আহমেদ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বুধবার দেশের ক্রিকেটের এই অভিভাবকের প্রয়ানের দিনে কার্যত কিছুই করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

কোনরকম আনুষ্ঠানিকতা দূরের কথা, শেরে বাংলায় বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়নি। এ নিয়ে শুধু ক্রিকেট অনুরাগি, সমর্থক ও ভক্ত মহলে রীতিমত ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

সবার একটাই কথা, রাইস উদ্দিন ক্রিকেটকে অকাতরে দিয়ে গেছেন। বিনিময়ে কিছুই নেননি, পাননি। আইসিসির সহযোগি সদস্য পদে আবেদনের মত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ কাজটিও যার নিজ হাতে করা, যে মানুষটি নিজে বিশ্ব ক্রিকেটের অভিজাত ও কুলীন ক্লাব মেরিলোবান ক্রিকেট ক্লাব এমসিসির আজীবন সদস্য বিধায় সেই দলকে ৭০’র মাঝামাঝি প্রথম বিদেশি দল হিসেবে বাংলাদেশে খেলতে নিয়ে এসেছিলেন- তাকে কি কোনও সম্মান দেখানো যেত না? তিনি কি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রাপ্য নন?

বিসিবির অন্যতম দুই নীতি নির্ধারক জালাল ইউনুস ও আকরাম খান আজ (বৃহস্পতিবার) এ ব্যাপারে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তারা আশ্বস্ত করেছেন, শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে যতটা সম্ভব সম্মান জানানোর প্রাণপন চেষ্টা করা হবে।

বোর্ড পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানান, ‘আসলে রাইস ভাইয়ের (রাইস উদ্দিন আহমেদ) মৃত্যু সংবাদ যখন বোর্ডে আসে, তখন আমাদের তাৎক্ষণিকভাবে খেলা শুরুর আগে কিছু করার মত অবস্থা ছিল না। যেহেতু স্যাটেলাইটে সব প্রচার করা হয়, তাই আগে থেকে বলে কয়ে না রাখলে উপস্থিত মুহূর্তে কিছু করা কঠিন। তাই বুধবার নীরবতা পালন করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা তার আত্মার প্রতি সন্মান দেখাতে চাই। শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে রাইস ভাইয়ের প্রতি সম্মান দেখাতে যা যা করনীয়, আমরা তা করব।’

জালাল কৃতজ্ঞ চিত্তে রাইস উদ্দিনের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি যখন সত্তর দশকের মাঝামাঝি খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করি, তখন রাইস ভাই ছিলেন বোর্ড সম্পাদক। আমি দেখেছি কত সীমাবদ্ধতা আর দূর্বল অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েও রাইস ভাই, দামাল ভাই, হুদা ভাই ও রেজা ভাইরা ক্রিকেট বোর্ড চালিয়েছেন। মাঠ ছিল হাতে গোনা, আম্পায়ারদের পয়সা দেয়ার সামর্থ্য ছিল না। তারপরও তারা নিজেরা খরচ করে নিয়মিত প্রথম, দ্বিতীয় বিভাগ লিগ চালিয়েছেন। দেশের ক্রিকেটে রাইস ভাইয়ের অবদান অপরিসীম।’