৪৬তম প্রেসিডেন্টের শপথ, জো বাইডেন যুগে প্রবেশ করল যুক্তরাষ্ট্র

16
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
জো বাইডেন যুগে প্রবেশ করল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই নেতা। তাঁর সহযোগী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

স্থানীয় সময় আজ বুধবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। আর ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস শপথ নিয়েছেন বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেওরের কাছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও এনবিসি এ খবর জানিয়েছে।

নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়। প্রথা ভেঙে নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেননি বিদায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প। শপথের আগেই হোয়াইট হাউজ ছেড়ে ফ্লোরিডায় পাড়ি জমান তিনি।

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ বুশ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ট্রাম্প না থাকলেও বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

এদিকে, নতুন প্রেসিডেন্টকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ছিল ক্যাপিটল হিল। অন্যবারের চেয়ে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল আরো কঠোর। মোতায়েন ছিল ২৫ হাজার সেনা।

ওয়াশিংটন শহরের বেশিরভাগ অংশেই চলাচল আটকে দেওয়া হয়। শপথ অনুষ্ঠানে গণজমায়েত এড়াতে এবার জনগণকে বাড়িতে বসেই ভার্চুয়ালি বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠান দেখার অনুরোধ জানানো হয়।

এদিকে, শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে বুধবার সকালে ওয়াশিংটন ডিসির সেন্ট ম্যাথিউ গির্জায় হাজির হয় বাইডেনের গাড়িবহর। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জিল বাইডেন। ক্যাথিড্রালে বাইডেনের পরিবারের অন্য সদস্যরা, নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস তাঁর পরিবারসহ প্রার্থনায় যোগ দেন।

মহামারির সময়ে হলেও এবার বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত গান লেডি ‍গাগা। মঞ্চ মাতান জেনিফার লোপেজসহ একাধিক তারকা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দুইবার অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেতা টম হ্যাংকস।

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথমদিনই অন্তত ১৭টি অধ্যাদেশে সই করবেন বাইডেন। এরমধ্যে নতুন অভিবাসন নীতি, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় পুনরায় যোগ দেওয়ার বিষয়গুলো থাকছে।

এদিকে, শপথের আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছে বিশেষ এই দিনটি উপলক্ষে একটি টুইট করেন বাইডেন। টুইটারে বাইডেন লেখেন, ‘আমেরিকায় এটি একটি নতুন দিন।’

এছাড়া শপথ নেওয়ার আগে বাইডেনকে অভিনন্দন জানান সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এক টুইট বার্তায় ওবামা লেখেন, ‘অভিনন্দন আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে। এখন সময় আপনার।’

এদিকে, বিদায়ী বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পও বাইডেন প্রশাসনের সফলতা কামনা করেছেন। ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি জো বাইডেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না। তবে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বাইডেনকে লেখা একটি চিঠি রেখে গেছেন ট্রাম্প।

বাইডেনের অভিষেক উপলক্ষে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলের পুরো চত্বর মুড়ে দেওয়া হয় এক লাখ ৯১ হাজার ৫০০ পতাকা দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ও টেরিটরির নির্দেশক ৫৬টি পিলারে করা হয় মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার এত কড়াকড়ি থাকলেও বাইডেনের শপথে ওয়াশিংটন ডিসি ছিল জনমানবশূন্য। যদিও অভ্যন্তরীণ হুমকির কোনো ইঙ্গিত নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির অস্থায়ী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টোফার মিলার।

সংবাদমাধ্যমকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই অস্থায়ী প্রধান গত সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, বাইডেনের অভিষেক ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলের সুরক্ষায় সহায়তা করতে ২৫ হাজারেরও বেশি ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

মিলার জানান, ন্যাশনাল গার্ড সেনাদের প্রত্যেকের ব্যাকগ্রাউন্ড পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। আর এই কাজে এফবিআই সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করেছে।

গত বছরের ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করে জয়ী হন বাইডেন। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী বাইডেন ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। অন্যদিকে ট্রাম্প পান ২৩২টি ইলেকটোরাল ভোট।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের ফল না মেনে তা চ্যালেঞ্জ করায় এবার এই ভোট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে অঙ্গরাজ্যগুলোতে অনুষ্ঠিত এই ভোটের দিকে চোখ রাখছিলেন সবাই। কারণ নির্বাচনের শুরু থেকেই ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছিলেন ট্রাম্প। এর জন্য তিনি আদালতেও গিয়েছেন, যদিও ভোট জালিয়াতির সব অভিযোগ খারিজ করে দেন আদালত।

গত ৬ জানুয়ারি নতুন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয় অনুমোদনের দিনে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে তাণ্ডব চালান ট্রাম্প সমর্থকেরা। একপর্যায়ে তারা নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন এবং ভবনের ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়। মার্কিন কংগ্রেসে এমন সহিংস হামলার ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে বিশ্বজুড়ে।

কিন্তু এত কিছুর পরও বিদায় নিতে হয়েছে ট্রাম্পকে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউস ছেড়েছেন তিনি। আর শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে চার বছরের জন্য হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ডেপুটি বাইডেন।