এবার ভারতের বিতর্কিত অরুণাচলে ঢুকে পড়ল চীন

7
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
বিতর্কিত অরুণাচল প্রদেশে বড় পরিসরে গ্রাম তৈরি করেছে চীনা সেনারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, সীমান্ত ঘেঁষে সুজ্জতি গ্রাম। ভারতীয়দের দাবি, প্রকৃত সীমান্ত রেখার নিয়ম ভঙ্গ করে ভারতীয় এলাকায় ঢুকে একটি গ্রাম তৈরি করেছে চীনা সেনারা। এ নিয়ে দু’দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তাসরি চু নদীর তীরে বানানো ওই গ্রামে প্রায় ১০১টি ঘর তৈরি করেছে চীনা সেনাবাহিনী। এ বিষয়ে নয়াদিল্লি একটি স্যাটেলাইটের ছবিও প্রকাশ করেছে। যা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

প্রকাশিত দুটি ছবিতে দেখা গেছে, ২০১৯-এর ছবিতে জঙ্গলাকীর্ণ নদীর তীরে জনবসতির কোনও চিহ্ন নেই। একই জায়গায় ২০২০ সালের ১ নভেম্বরের ছবিতে পুরো একটি গ্রাম দেখা যাচ্ছে। ভারতের দাবি, ওই এলাকার অবস্থান এলএসি-র অন্তত সাড়ে ৪ কিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ড।

এ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘গত কয়েক বছরে চীন নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পরিকাঠামো তৈরি করে চলছে। সম্প্রতি কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত বছরের নভেম্বরে অরুণাচলের এক বিজেপি সাংসদ অভিযাগ করেছিলেন, সুবনসিরি জেলায় নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতীয় এলাকায় ঢুকে স্থায়ী কাঠামো বানাচ্ছে বেইজিং। এ নিয়ে চীনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এক সময় অরুণাচল তিব্বতের অংশ ছিল। এখন অরুণাচল সম্পূর্ণই ভারতের নিয়ন্ত্রণে। স্বাভাবিকভাবে ভারতের তরফ থেকে অরুণাচল নিয়ে কোনো বিতর্কই পাত্তা দেওয়া হয় না। অথচ চীনের স্কাই ম্যাপের মানচিত্রে অরুণাচলকে তাদের দেখানো হয়। স্কাই ম্যাপ দেশটির ডিজিটাল মানচিত্র বানায়। তারা অরুণাচলকে বলে ‘লোয়ার তিব্বত’। কখনো কখনো ‘দক্ষিণ তিব্বত’।

চীনের মতে, এক সময় দালাই লামারাই লোয়ার তিব্বত শাসন করতেন। যেহেতু তিব্বত এখন চীনের হানদের নিয়ন্ত্রণে, সুতরাং অরুণাচলেরও মালিক তারা।

কিছুদিন আগেও অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চীন। সেই সঙ্গে প্রদেশটি ‘দক্ষিণ তিব্বত’- এর অংশ জানিয়ে বিবৃতি দেয় চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাঁও লিঝিয়ান। অরুণাচল নিয়ে চীনের অবস্থান স্পষ্ট করে ঝাও আরও বলেন, চীন কখনোই তথাকথিত অরুণাচল প্রদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। এলাকাটি চীনের অন্তর্গত দক্ষিণ তিব্বতের বলেও জানান তিনি। যদিও চীনের এ দাবিকে ভিত্তিহীন অ্যাখা দেয় নয়াদিল্লি।