দ্বিতীয় দশকের সেরা ২৫ কবির কবিতা প্রকাশ করছে তীরন্দাজ

25
Print Friendly, PDF & Email

কাজী মেহেদী হাসান, লিটারেচার ডেস্কঃ
‘এইসব সোনালি শব্দশস্য’ শিরোনামে দ্বিতীয় দশকের কবিতা সংকলন প্রকাশ করছে সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতির অন্তর্জাল তীরন্দাজ। সম্পাদনা করছেন কবি সুবর্ণ আদিত্য।

ইতোমধ্যেই এই সংকলনের দুই কিস্তি প্রকাশিত। স্বনির্বাচিত শ্রেষ্ঠকবিতাসহ পাঠকের সামনে হাজির হয়েছেন কবি অনুভব আহমেদ এবং অরবিন্দ চক্রবর্তী। পাঠকের সাড়াও মিলেছে বেশ। ধারাবাহিকভাবে সামনে আসা এই ২৫ কবিকে ঘিরেই চলছে সাহিত্যপাড়ার আলোচনা। পক্ষে এবং বিপক্ষে।

যেকোন সংকলনেই প্রাথমিকভাবে যে বাঁধাটি অতিক্রম করতে হয় তা হলো জনরুচি। আদতে সবার কাছেই গ্রহনযোগ্যতা হয়তো কোন কালেই কোন সংকলন পায় না। কেউ বলেন, সে বাদ পড়েছে। কেউ বলেন, এমন না হয়ে ওমন হলেও পারতো। দ্বিতীয় দশকের সংকলন এটাই যে প্রথম তাও নয়। এর আগে কবি অরবিন্দ চক্রবর্তীর সম্পাদনায়ও হয়েছে। সেখানেও খুব স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক ছিল।

দশকভিত্তিক কবিদের এই বিন্যাসও কখনই সবাই একসাথে হাততালি দিয়ে বরণ করেনি, তবুও চলেছে। কবিতার নিজস্ব রঙ-রূপ আর দশদিক ছড়ানো প্রভাব দিয়েই। দিনশেষে এটাই সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়। অন্তত এই বাক্যটি সাহিত্য সংশ্লিষ্ট যে কেউ স্বীকার করেন।

এই প্রসঙ্গে অতিথি সম্পাদক সুবর্ণ আদিত্য জানান, আদতে সাহিত্যে দশকওয়ারি হিসাবটা নাকচ করে দেয়া যায় না। নানা কারণে এই বিন্যাস হয়ে এসেছে, ভবিষ্যতেও হবে। সেই আলোচনা থাকুক। বাংলাদেশে সদ্যই দ্বিতীয় দশক শেষ করে আমরা তৃতীয় দশকে পদার্পন করলাম। কবিতায় এই দশকের কবিতা, কবিতার সুর, স্বর, কবিতায় যাপন, আচরণ, শব্দ ব্যবহার/গ্রহণ/বর্জন, নির্মাণ, প্রক্ষেপণ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং একইসাথে প্রত্যেকের কবিতায় নিজস্বতা আছে। ব্যাপকভাবেই আছে। সেই সুত্র ধরেই বলা যায়, এই দশকের কবিরা বিশিষ্টতা অর্জন করতে যাচ্ছে। কী অর্থে বিশিষ্ট, তা হয়তো তর্কযোগ্য বিষয়। আমরাও চাই এ বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনা হোক। করোনাদূর্যোগ হওয়াতে সংখ্যাটি অনলাইনে করতে হলো এবং এমন কাজ অনলাইনেও এটাই প্রথম। হয়তো আজকের এই সংখ্যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে খুঁজে পাওয়া যাবে সমকালের বিচরণ। দেখা যাবে কারও কারও গন্তব্যও। এমন অভিপ্রায় নিয়েই এই সংকলন।

পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনাকে এক পাশে রেখে নির্বাচিত কবিদের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, তাছাড়া দ্বিতীয় দশকের গুরুত্বপূর্ণ কোনও সংকলনও নাই যা পরিপূর্ণভাবে এই দশকের আয়না। সংকলন করতে গিয়ে ভালো কবিতার ভিত্তিতে কবিকে বাছাই করা গেছে। কাজটা কঠিন ছিল। পঁচিশ জন কবির স্বনির্বাচিত পাঁচটি করে কবিতা দিয়ে সাজলো সংকলনটি। তালিকাটা ৩০ হলেও হতে পারতো, কয়েকজন স্বেচ্ছায় অন্তর্ভুক্ত হননি আর কয়েকজনকে আদর্শগত অবস্থানের কারণে বাদ দিয়েছি। তীরন্দাজে ‘এইসব সোনালি শব্দশস্য’ শিরোনামে এই অনলাইন সংখ্যাটি আমাজন থেকে পিডিএফ সংস্করণ করতে যাচ্ছি, কয়েকটি ভাষায় অনূদিতও হবে। গ্রন্থাকারেও আসবে আরেকটি সংখ্যা, বড় পরিসরে। যারা এই সংখ্যায় নির্বাচিত হয়েছেন তারা তাদের কবিতার জন্যই হয়েছেন। আমরা আনন্দিত তাদেরকে যুক্ত করতে পেরে। এমন একটি কাজ করতে পারা তৃপ্তিরও। যারা পাশে ছিলেন, একটু দূরে ছিলেন, কিংবা ছিলেন না – সবাই ভালোবাসার মানুষ। পৃথিবীর সূচনা থেকে আমরাই হেঁটে যাচ্ছি এক সত্তায়, আমাদের গন্তব্য একটাই, আমাদের মিছিল একটাই। লক্ষ্যও অভিন্ন। কবিতার জয় হোক।

এমন সৎ এবং সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তি প্রশংসাযোগ্য। পাশাপাশি তিনি প্রত্যেকের টেক্সট এবং সেটা নিয়েই সাজানো আগামীর যে পরিকল্পনার কথা জানালেন তা অবশ্যই এই সংকলনকে আরও বেশি গ্রহনযোগ্য করে তুলবে। জয় হবে কবিতারই।