চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনঃ সংঘাত, মৃত্যু, কাউন্সিলর আটক

10
Print Friendly, PDF & Email

ডিস্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রামঃ
নগরে ভোটের হাওয়ায় উৎসবের রং লেগেছে। লাখো পোস্টার, হাজারো ব্যানার, মাইকিং, গণসংযোগ, মিছিল, নির্বাচনী অফিস বা ক্যাম্প নজর কাড়ছে বেশ। পাশাপাশি শঙ্কাও বাড়ছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনী সহিংসতায় একজন নিহত হয়েছেন, এক কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা এবং গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটেছে।

নিহত আজগর আলী বাবুলের ছেলে নগরীর ডবলমুরিং থানায় এই মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) শ্রীমা চাকমা।

তিনি বলেন, “কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল কাদেরসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়। মামলাটি তদন্ত করবে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।”

এদিকে সংঘর্ষের পর গভীর রাত পর্যন্ত মোগলটুলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল কাদেরসহ অন্তত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “কাদেরসহ আটক সবাইকে মনসুরাবাদ পুলিশ লাইনের গোয়েন্দা কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।

“যাচাই-বাছাই চলছে; মামলার এজাহারে যাদের নাম আছে তাদের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।”

মঙ্গলবার রাতে নগরীর মোগলটুলি মগ পুকুর পাড় এলাকায় ২৮ নম্বর পাঠানটুলি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল কাদেরের অনুসারিদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আজগর আলী বাবুল (৫৫) মারা যান ও অপর একজন গুলিবিদ্ধসহ কয়েকজন আহত হন।

হতাহতরা সবাইকে নিজের সমর্থক দাবি করে রাতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর বলেছিলেন, মগ পুকুর পাড় এলাকায় জনসংযোগ করে নজির ভান্ডার লেইনে যাওয়ার পথে বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে তার সমর্থকদের ওপর হামলা হয়। আর তাকে বাঁচাতে গিয়েই মারা যান আজগর আলী।

২৮ নম্বর ওয়ার্ডের গতবারের কাউন্সিলর আব্দুল কাদের ওরফে মাছ কাদের নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এবার দল তাকে মনোনয়ন না দিয়ে বাহাদুরকে মনোনয়ন দেয়।

বাহাদুর শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী। কাদেরের আগে ২০০০-১৪ মেয়াদে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন তিনি।

নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন আব্দুল কাদের। তার বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজিসহ বেশ কিছু মামলা আছে। বন্দর নগরীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত আগ্রাবাদ এলাকায় চাঁদাবাজিসহ অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন কাদের।

বিভিন্ন সময়ে কারাগারেও ছিলেন অন্তত বছর পাঁচেক। ২০১৪ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৮ নম্বর পাঠানটুলি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হয়ে জয় পান কাদের।