আমার পিতার স্মারক- শ্যামসুন্দর সিকদার

116
Print Friendly, PDF & Email

লিটারেচার ডেস্কঃ
কবিতা সবসময়ই ভাবপ্রকাশের এক শক্তিশালী মাধ্যম। সাহিত্যের মধ্যমনি। যেখানে কেবলই সত্য আর সুন্দর উচ্চারিত হয়। জবাব দেয়া যায় যে কোন ভ্রুকুটির, সৃষ্টির আনন্দই এমন। নিউজ’বি সাহিত্য পাতায় আজ থাকছে, শ্যামসুন্দর শিকদারের কবিতা…

আমার পিতার স্মারক
শ্যামসুন্দর সিকদার


এই ভাস্কর্য আমার পিতার স্মারক 
এই ভাস্কর্য আমার অস্তিত্ব ধারক 
এই তুমি সেই এক অনিবার্য তুমি 
এই তুমি ভাস্কর্যের স্বয়ং সেই তুমি 
এই তুমি তর্জনীর সেই মালভূমি 
এই ভাস্কর্য আমার নিষ্ঠ জন্মভূমি 
যতদূর আলাে ততদূর বসবাস 
এই বুকে বাস করে দুঃসহ নিশ্বাস।


তোমার আছে যে এক অন্য ইতিহাস 
বজ্রনিনাদে ঘুচাবাে সব পরিহাস 
আমার আছে যে এক অন্য অহংকার 
শুনিতেছি আজ ভুলে যাওয়া হুঙ্কার 
ভাস্কর্য এখন কথা বলে মমতায়
এই ভাস্কর্যের মাটি পবিত্র সত্তায়
মাথা উঁচু করে থাকে ঐতিহ্যের পায়
বাংলাদেশ নামে থাকে সে বিমুর্ততায়। 


ভাস্কর্য তােমার এক শুদ্ধ সমাচার 
এই মানচিত্রে থাক ভাস্কর্যের দ্বার 
অমর বিভায় আছো অন্তরে অন্তরে 
এই পতাকায় লাল সবুজের পরে 
ভাস্কর্য এখন কথা বলে ঘরে ঘরে 
যতদূর শুনা যায় প্রতিবাদী স্বরে 
এই তুমি নও আর শুধুই ভাস্কর্য
এই তুমি হও আজ নন্দিত ঐতিহ্য। 


ভাস্কর্য আমার ঘুরে দাঁড়ায় শপথে 
ফিরায় তস্কর শত যে গেছে বিপথে 
অহঙ্কার এই বুকে – ভাস্কর পিতার 
বাংলার মাটিতে হলাে সে যে অবতার 
এই ভাস্কর আমার আলােকিত সূর্য 
নিয়ত শেখায় যুদ্ধ, কাঁধে থাকে তূর্য 
এই তুমি সেই তুমি দিগন্তে আভূমি 
এই ভাস্কর্যেই করে বাস জন্মভূমি।

উত্তরে ভাস্কর্য তার দক্ষিণেও রয় 
রক্তাক্ত পূর্বের এক ইতিহাস হয় 
পশ্চিমে আবার আলাে অবারিত থাকে
স্বাধীনতা দিল পিতা, উৎস জানি তাকে 
বঙ্গবন্ধু নাম তার ভাস্কর্য নির্মাণে 
শিল্পীর হাতের কাজ, তর্জনী উত্থানে।

 
ভয়ে ভীত থাকে শয়ে সকলে-তঙ্কর 
নিস্প্রাণ ভাস্কর্য যেন শক্তিশালী বেশি 
হে ভাস্কর্য! তুমি শুভ, তুমিই অমর !!