স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এইদিনেই অশেষ ভালোবাসায় সিক্ত হন ‘অদম্য’ বঙ্গবন্ধু

5
Print Friendly, PDF & Email

স্পেশাল করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ১০ জানুয়ারি। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর ১৯৭২ সালের এই দিনেই স্বাধীন বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিব।

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। পাকিস্তানের শাসন-শোষণ ও অত্যাচার-নির্যাতনের হাত থেকে বাঙালিকে মুক্ত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের অনন্য সাধারণ নেতৃত্ব দেন। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়েই জীবনের একটা বড় সময় শেখ মুজিবকে জেল, জুলুম ও নির্যাতন ভোগ করতে হয়।

পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির সফল আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্যদিয়েই বাঙালির অবিসংবাদিত এ নেতা ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হন।

আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালাতে শুরু করে। এই ঘটনার সঙ্গে-সঙ্গে বঙ্গবন্ধু তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এর পরপরই বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। শুরু হয় বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলতে থাকে। এই সময় বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি রেখে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার নানা ষড়যন্ত্র আর পরিকল্পনা করে পাকিস্তানিরা।

জেলের মধ্যে অত্যাচার নির্যাতনই শুধু নয়, তাঁকে ফাঁসির মঞ্চেও নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দেশে-বিদেশে বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা ও তাঁর অদম্য সাহসের কাছে হারমানে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক গোষ্ঠী।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে ৩০ লাখ শহীদ এবং ৩ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের মধ্যদিয়ে বাঙালি বিজয় অর্জন করে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকায় বাঙালির অর্জিত বিজয় পূর্ণতা পায়নি। বিজয়ী বাঙালি জাতি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যদিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে তাদের মহান নেতার ফিরে আসার।

মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর বিশ্বব্যাপী বঙ্গবন্ধু জনপ্রিয়তা আরো বাড়তেই থাকে। বাঙালির পাশাপাশি বিশ্বের স্বাধীনতা ও শান্তিকামী মানুষও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবি তোলে। আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে অবশেষে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু সোজা লন্ডন চলে যান। সেখান থেকেই ১০ জানুয়ারি স্বদেশে ফেরেন।

সেদিন সারাদেশ থেকে মানুষ ছুটে আসেন তাঁদের অদম্য নেতাকে এক নজর দেখতে। গোটা দেশ থেকে আসা লাখো জনতা তাঁদের প্রাণের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাগত জানান এবং বাঙালির ভালবাসায় সিক্ত হন বঙ্গবন্ধু।

বিমানবন্দর থেকে লাখ জনতার সমুদ্র পাড়িয়ে দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স) দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু জনতার উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘বাঙালি আমাকে যে ভালবাসা দিয়েছে, সেই বাঙালির জন্য আমি রক্ত দিতেও প্রস্তুত।’

বাংলার মুকুটহীন সম্রাট, ইতিহাসের মহানায়ক, বাংলার রাখাল রাজা, বাঙ্গালির জাতির পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু “শেখ মুজিবের” স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এই ঐতিহাসিক দিবসে সবাইকে সংগ্রামী সালাম, অভিনন্দন ও শুভাশিস।

“যে মুজিব জনতার
সে মুজিব মৃত নয়।”