রাজধানীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিক্ষার্থীর দাফন কুষ্টিয়ায় সম্পন্ন

34
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া:
ধর্ষণের পর হত্যার শিকার রাজধানীর ধানমন্ডি মাস্টার মাইন্ড স্কুলের ও লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নুর আমিনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার সকাল ৭টায় আনুশকার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে জানাজা শেষে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনুশকার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ নিহতের ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘কলাবাগান থানা থেকে একটি মরদেহ আমাদের কাছে আসে। আমরা মরদেহটির ফরেনসিক ময়না তদন্ত শেষ করেছি। ময়নাতদন্ত শেষ করার আগে পুলিশ আমাদের কাছে কিছু তথ্য ও নিহতের বয়স জানতে চেয়েছিল। ময়নাতদন্তে আমরা দেখেছি তার শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে সে মারা গেছে। আর রক্তক্ষরণটি হয়েছে ভ্যাজাইনাল ও পায়ুপথ থেকে। এই দুই যায়গা থেকে রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে মূলত তার মৃত্যু হয়েছে। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেশি থাকায় সে হাইপার বিলিরুবিনেমিয়ায় মারা গেছে ‘

এটা বিকৃত যৌনাচার ছিলো কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ এটা একটি বিকৃত যৌনাচার ছিল। আমরা তার শরীরের দুই পথ দিয়ে রক্তক্ষরণের প্রমাণ পেয়েছি। তবে আমরা জোরাজুরির কোনো আলামত পাইনি। ময়নাতদন্তে তার ভ্যাজাইনাল অংশে ও পায়ুপথে কিছু ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।’

নিহত শিক্ষার্থীর বয়স কত ছিলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তার বয়স পরীক্ষার জন্য এক্সরে ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু শুক্রবার বন্ধ থাকার কারণে সেটি পরীক্ষা করা যায়নি। তবে আমরা তার শরীরের গঠন, দাঁত ও তার বিভিন্ন বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে তার বয়স নির্ধারণ করা হবে। তবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। সময় লাগবে। যেহেতু এখানে আইনের কিছু ধারার কারণে বয়স জানা প্রয়োজন।’

‘পুলিশ যেহেতু জানতে চেয়েছে আমরা চেষ্টা করছি সঠিক তথ্যটি জানানোর। এছাড়া ডিএনএ ও ভিসেরা রিপোর্টের পরই বোঝা যাবে গ্যাং রেপ হয়েছে কি না’- যোগ করেন তিনি।