‘বিকৃতমনা’ ধর্ষক কে এই দিহান?

8
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
গ্রুপ স্টাডির কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর রাজধানীর মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নুর আমিনকে (১৭) ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিক ফারদিন ইফতেখার দিহানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) অভিযুক্ত দিহান আদালতে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

জানা গেছে, দিহানের বাসা রাজধানীর কলাবাগান লেক সার্কাস এলাকায়। গ্রামের বাড়ি রাজশাহী জেলার দুর্গাপুরের রাতুগ্রামে। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুর রব সরকার। তিনি তার বড় ছেলে সুপ্তকে নিয়ে গ্রামে থাকেন। আর মা সানজিদা সরকার শিল্পীর সঙ্গে দিহান ও তার মেজ ভাই নিলয় থাকেন ঢাকায়। নিলয় ব্যাংকে চাকরি করেন।

তিন ভাইয়ের মধ্যে দিহান সবার ছোট। দিহান ও আনুশকার মধ্যে দীর্ঘদিন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। এই বন্ধুত্বের বিষয়ে তাদের দুই পরিবারও জানতো। ওই কিশোরীর সঙ্গে দিহানের পরিচয় হয় তার এক বান্ধবীর মাধ্যমে। যা একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়।

দিহান ওই কিশোরীর চেয়ে দুই বছরের বড়। গত বছর ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল শেষ করে দিহান। এখন সে জিইডি’র প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ধর্ষণের শিকার কিশোরীটি অচেতন হয়ে পড়লে দিহান প্রথমে কিশোরীর মাকে ফোন করে। তখন কিশোরীর মা তাকে দিহান বলেই সম্বোধন করেন। দিহান যখন কিশোরীর অচেতন হওয়ার কথা জানায়, তখন কিশোরীর মা জানতে চান তারা কোথায় আছে। দিহান উত্তরে নিজের বাসার কথা বললে কিশোরীর মা বলেন, বাসায় আর কে কে আছেন? দিহানের উত্তরে তিনি আবার বলেন, ফাঁকা বাসায় তোমরা দুজন কী করছো?

এদিকে, ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তা ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন, রাজধানীর ‘ও’ লেভেলের স্কুলছাত্রী বিকৃত যৌনাচারের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছে। তবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, শারিরীক গঠন ও দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া ডিএনএ ও ভিসেরা রিপোর্টের পরই বোঝা যাবে গ্যাং রেপ হয়েছে কি না।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ময়না তদন্তের ক্যামিকেল এক্সামিনেশনের জন্য আলামত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছি। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই।

এদিকে, স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গত ৭ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর কলাবাগান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ২ ধারায় দিহানকে আসামি করে খুনসহ ধর্ষণ মামলা করেন মেয়েটির বাবা।

মামলার এজাহারে ওই কিশোরীর বাবা মো. আল আমিন উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে সাড়ে ৮টায় আমার স্ত্রী অফিসে এবং আমি সকাল সাড়ে ৯টায় ব্যবসায়ী কাজে বের হয়ে যাই। পরে আমার মেয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় তার মাকে ফোন দিয়ে বলে সে কোচিংয়ের পেপার্স আনতে বাইরে যাচ্ছে। দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে দিহান আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে আমার মেয়ে তার বাসায় গিয়েছিল। সেখানে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেছে। এ কথা শুনে আমার স্ত্রী দুপুর ১টা ৫২ মিনিটের দিকে হাসপাতালে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে জানতে পারেন আমাদের মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছে।

পরে আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পারি দিহান আমার মেয়েকে প্রেমে প্রলুব্ধ করে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তার বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। দিহান ফাঁকা বাসায় আমার মেয়েকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় তার শরীর দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে অচেতন হয়ে যায়। পরে ধর্ষণের ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে দিহান চালাকি করে আমার মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন।