ভোগ বিলাসিতা নয়, দেশপ্রেম ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

6
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
ভোগ বিলাসিতা নয় বরং দেশপ্রেম ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মনে রাখবে যে-ই আদর্শ নিয়ে গড়ে তুলতে পারবে নিজেকে, সে-ই কিন্তু সফল হবে। আর যদি অর্থ-সম্পদের দিকে নজর চলে যায়, কখনো সফল হতে পারবে না।

ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ছাত্রলীগের এ আলোচনায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

সংগঠনটির ইতিহাস, ঐতিহ্য আর অতীত সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস। ছাত্রলীগ আমাদের দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ যেকোনো আন্দোলনই যদি আমরা দেখি সব থেকে বেশি রক্ত দিয়েছে, শহিদ হয়েছে আমাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অন্য কোনো দলে এটা খুব বেশি পাওয়া যাবে না, আমাদের ছাত্রলীগে সব থেকে বেশি।

বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জনে ছাত্রলীগের অগ্রণী ভূমিকার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই ঐতিহ্যের কথা মনে রেখে এই সংগঠনটাকে শক্তিশালী করে তোমরা গড়ে তুলবে। সেটাই আমরা চাই।

ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দিতে সেবার মানসিকতা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ছাত্রলীগকে যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টির তাগিদ দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের আর কত…৭৫ বছর বয়স। আর কত দিন? ছাত্রলীগের ৭৩ বছর। আমিও ৭৫-এ পা দিয়েছি। কাজেই আমরা কতদিন আর চলব। তোমাদের কিন্তু সামনে নেতৃত্ব দিতে হবে। সেভাবে তোমরা নিজেদের গড়ে তুলবে।’ করোনা ভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেখি যে বৃক্ষরোপণ করা, ধান কেটে কৃষককে সহযোগিতা করা বা করোনা ভাইরাসের সময়ে আক্রান্ত রোগী এবং যারা মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সাহায্য করা, ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া, যখন ঝড় এলো, সেই ঝড়ের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, এই যে মানুষের সেবার জন্য যেই কাজগুলো করে যাচ্ছ, সেটাই হচ্ছে বড় কাজ।’

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করার পর জেনারেল জিয়াউর রহমান যখন অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় বসল, তার আগে সে মদদ দিয়েছিল খন্দকার মোশতাককে। পরে মোশতাককে হটিয়ে নিজে রাষ্ট্রপতি হলো। এরপর তার যে কাজ ছিল, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম, অত্যাচার করা। একদিকে তাদের প্রলোভন দিয়ে দলে টানার চেষ্টা আর সেটা না হলে তাদের গুম, খুন-হত্যা করা।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ অসহযোগ আন্দোলন করে। অস্ত্র তুলে নিয়ে যুদ্ধ করে, আমরা বিজয় অর্জন করি। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী চক্র তারা তো সক্রিয় ছিল। দেশীয় এবং বিদেশি এজেন্টরা সব সময় সক্রিয় ছিল। বঙ্গবন্ধু সাড়ে তিন বছর হাতে যে সময় পেয়েছিলেন এ সময়ে একটা স্বাধীন দেশকে গড়ে তোলার সব কাজের ভিত্তিটাই তিনি তৈরি করে দিয়ে যান।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়। সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনসহ আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাসহ কর্মীরা।

এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ হাজারো নেতাকর্মী। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কেক কেটে দিনটি উদযাপন করে ছাত্রলীগ।