বড় স্বপ্ন দেখা শিখতে হবে, সাফল্য আসবেইঃ উপাচার্য অধ্যাপক ড. সামসুদ্দিন

59
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকাঃ

ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, বড় স্বপ্ন দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামালপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেফমুবিপ্রবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেছেন, জীবনে সফল হতে হলে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। পাশাপাশি প্রচুর পড়ালেখা করতে হবে। বিশ্বে যত মানুষই সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন তাদের স্বপ্ন ছিল অনেক বড় হওয়ার। তাই তোমাদেরও একমাত্র স্বপ্ন দেখতে হবে সাফল্যের। এজন্য প্রচুর পড়ালেখা করে নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে।


জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও বর্ণিল সাজসজ্জা করা হয় কলেজে।

জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে রাজধানীর স্বনামধন্য সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১০টায় দেশবিদেশের সেরা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরল গৌরব অর্জনকারী কলেজটির অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী শরীফ উদ্দিন পদাতিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বশেফমুবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন।

বর্ণিল আয়োজনের এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ব্যাংকার ও সমাজ সেবী শামীমা আক্তার।
ডিএমপির তেঁজগাও বিভাগের নবনিযুক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আনিসুর রহমান সকলের সহায়তা কামনা করে বক্তব্য দেন। এ জোনের এডিসি, মোহাম্মদপুর মডেল থানার ওসি, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা মুন্সী তরিকুল ইসলাম ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, অধ্যক্ষ, পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসিসহ অতিথিবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বশেফমুবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পরপর দুবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুবাই ও থাইল্যান্ড থেকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শ্রেষ্ঠ প্রিন্সিপাল অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল কলেজ যেভাবে বিশ্ব দরবাবে নিজেদেরকে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছে তা সত্যিকার অর্থেই বিরল, দাবি রাখে কৃতিত্বেরও। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খ্যাতিবান এ শিক্ষাবিদ বলেন, অত্যন্ত সফল এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ্য, দক্ষ ও নিষ্ঠাবান যোগ্য নেতৃত্বগুনের কারণেই আজকে এ দেশের শিক্ষকদের মান-মর্যাদাও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পৌঁছে, আলোকিত করেছেন ভাবমূর্তি। এজন্য তিনি পরিচালনা পর্ষদসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিবাদন জানান।

কলেজের মনোরম অডিটোরিয়াম মঞ্চে প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদসহ অতিথিবৃন্দ।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য প্রফেসর ড. সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, নিজেদের ইতিহাস জানতে হবে। সাতচল্লিশ (১৯৪৭) থেকে একাত্তর (১৯৭১) এবং কিভাবে আমরা স্বাধীনতা পেলাম? এখানে কাদের অবদান রয়েছে? এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান থাকতে হবে। আর এই তাগিদটা এখন থেকেই থাকা উচিৎ।

একই সঙ্গে ইংরেজির দুর্বলতা কাটাতে নিজ উদ্যোগেই চর্চা বাড়ানোর পক্ষে মতে দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের এ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক।

তিনি বলেন, আগে জানার সুযোগ ছিল কম, কিন্তু শিক্ষার্থীদের পড়ার আগ্রহ ছিল বেশি। কিন্তু হাল আমলে বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়ার আগ্রহ কম! নিজেকে সমৃদ্ধ করতে নিজ থেকেই তথ্য প্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করে এগিয়ে যেতে হবে। খেলাধুলাসহ সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

প্রধান অতিথি, সভা প্রধান ও বিশেষ অতিথি।

বশেফমুবিপ্রবির কথা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা এ উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন বলেন, জামালপুরে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আধুনিক ও যুগোপযোগী উচ্চ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ার চেষ্টা করছি। সেভাবেই পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। আমি স্বপ্ন দেখি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েরাই একদিন দেশে-বিদেশে নেতৃত্ব দেবে।

আগামীতে সমন্বিত পদ্ধতিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

বর্ণিল আয়োজনের নবীন শিক্ষার্থী ও অতিথিবৃন্দ।

বর্তমান সরকারের সফলতাকে ব্যর্থ করার জন্য দেশ বিরোধিরা বিভিন্ন ধরনের চাক্রান্তে ব্যর্থ হয়ে ইদানিং গুজব ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। তিনি এ সময় অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সকলককে গুজব থেকে সাবধান এবং সর্তক থাকতে পরামর্শ দেন তিনি।

বিশেষ অতিথি শামীমা আক্তার বলেন, প্রকৃত জ্ঞান চর্চার কোনো বিকল্প নেই। শুধু শিক্ষিত হলেই হবে না, প্রকৃত মানুষ না হতে পারলে শিক্ষা মূল্যহীন। কঠোর নিয়মানুবর্তিতা, সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা, অধ্যবসায় ইত্যাদি গুণের সমন্বয়ে সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ যেভাবে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে যাচ্ছে তা সত্যিকার অর্থেই শিক্ষাক্ষেত্রের রোল মডেল। তাই শিক্ষকদেরকে আগামী প্রজন্ম যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আদর্শ নাগরিক হতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতেও পরামর্শ দেন তিনি।

সভা প্রধানের বক্তব্যে অধ্যক্ষ লে. কর্নেল কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভুদ্ধ জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে বলেন, নিজেকে দক্ষ মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার কোনোই বিকল্প নেই। সেজন্যই শিক্ষার্থীদেরকে নিয়মিত ও কঠোর অধ্যবসায়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে বলেন তিনি। পরিশেষে তিনি নানাক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সাফল্য, ফলাফল ও উন্নয়নমূলক বিষয় তুলে ধরেন এবং সকলকে ধন্যবাদ জানান।

অধ্যক্ষসহ কলেজের শিক্ষকবৃন্দের সঙ্গে প্রধান অতিথি।

অতিথিবৃন্দের বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থিত সকলের মনোযোগ আর্কষণ করে। বিশেষ করে প্রভাষক অনিক মাহমুদের একক সঙ্গীত পরিবেশনা ছিল সবচেয়ে আর্কষণীয় ও মনোমুগ্ধকর।

জাঁকজমকপূর্ণ ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার এ নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন শেষে প্রধান অতিথি বশেফমুবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সামসুদ্দিন আহমেদ সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল কলেজের বিভিন্ন বিভাগ ও পরিপাটি-ব্যতিক্রমী শ্রেণী কক্ষ পরিদর্শন করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

এদিকে, একাদশ শ্রেণির এ নবীনবরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বর্ণাঢ্য ও বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয় পুরো প্রতিষ্ঠানটি। সকালে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছুলে প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সামসুদ্দিন আহমেদকে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে ও শিক্ষার্থীরা ফুল ছিটিয়ে বরন করে নেয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির সুসজ্জিত চৌকস বিএনসিসি দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধান অতিথিকে ফুলের তোড়া উপহার।