রবি ও বাংলালিংকের টিভ্যাস বন্ধের সিদ্ধান্ত আপাতত প্রত্যাহার করল বিটিআরসি

20
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
টেলিকম অপারেটর রবি ও বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কনটেন্ট প্রোভাইডারদের মাধ্যমে সব ধরনের টেলিকম ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (টিভ্যাস) বন্ধ রাখার নির্দেশনা অস্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

গ্রাহকের অজান্তে সেবা চালু করে টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগে সোমবার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে দুই অপারেটরের সঙ্গে আলোচনার পর একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্তও বদলে যায়।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, “দুই অপারেটরদের সাথে সকালে বৈঠক হয়েছে। এ বিষয়ে তারা তাদের কিছু ভুল-ক্রটি স্বীকার করে সমাধানের নিশ্চয়তা দিয়েছে। দুই অপারেটরকে অস্থায়ী ভিত্তিতে এ নির্দেশনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।”

রবি ও বাংলালিংকে কনটেন্ট সরবরাহকারী কোনো সমস্যা হবে না বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

“যে কোনো সিদ্ধান্ত কমিশন বৈঠকে নিতে হলেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিউজ অ্যালার্টসহ অন্যান্য সেবা এর মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকে। আগামী কমিশন বৈঠক পর্যন্ত তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধান করলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

বিটিআরসি নির্দেশনার পর সোমবার মধ্যরাত থেকে টিভ্যাস বন্ধ করার জন্য কনটেন্ট প্রোভাইডারদের জানিয়েছিল দুই অপারেটর।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, “সোমবার এ ধরনের নির্দেশনা পাওয়ার পর কনটেন্ট প্রোভাইডারদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জানানো হয় এবং বন্ধ প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার সকালে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে বৈঠকে তা অস্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। তাই কনটেন্ট প্রোভাইডারদের কোনো সমস্যা থাকছে না।”

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিবন্ধিত টিভ্যাস অপারেটর রয়েছে ১৮২টি।

দেশের ৪ অপারেটরের মাধ্যমে নিউজ অ্যালার্টসহ গান, ভিডিও, ওয়েলকাম টিউন ইত্যাদি সেবা দিয়ে থাকে টিভ্যাস প্রতিষ্ঠানগুলো।

অপারেটরদের একাধিক ঊধ্বতন কর্মকর্তা জানান, টিভ্যাস খাতে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যবসা রয়েছে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নিউজ অ্যালার্ট, ব্যাংক, ইন্সুরেন্স, টেলিমেডিসিন সেবাসহ অন্যান্য সেবায় গ্রাহক ভোগান্তি হত।

গত ১২ নভেম্বর গ্রাহকের অজান্তে সেবা চালু করে টাকা কেটে নেওয়ার বিষয়ে টেলিকম অপারেটর রবি ও বাংলালিংকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলালিংক ও রবির সব টিভ্যাস কেন বন্ধ রাখা হবে না, সে বিষয়ে ৭ দিনের মধ্যে কমিশনকে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিল বিটিআরসি।

একই নোটিসে কনটেন্ট প্রোভাইডারদের মাধ্যমে সব টেলিকম ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (টিভ্যাস) বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল বিটিআরসি।

তখন দুই অপারেটরের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, এ বিষয়ে বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে।