রাজধানীতে ভোটার হালনাগাদ শুরু বুধবার

27
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকাঃ
বুধবার (৩ জুলাই) থেকে ঢাকা মহানগরীর ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এদিন রাজধানীর ওয়ারী, সুত্রাপুর ও ডেমরা থানা বাদে অন্যসব থানার নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারের তথ্য সংগ্রহের এ কাজ চলবে ২৩ জুলাই পর্যন্ত।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. আলমগীর।

এ সময় তিনি বলেন, ‘তথ্যসংগ্রকারীরা যদি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ না করে বা দায়িত্ব অবহেলা করে আইনে যে শাস্তির বিধান রয়েছে সে অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘বাড়ি বাড়ি না গেলে কি ধরনের শাস্তি হতে পারে?’- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনে অর্থদণ্ড ও জেল জরিমানাও রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আমরা অপরাধের মাত্রা দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

ইসি সচিব আরও বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে কেউ ভোটার হতে না পারলেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ সারাবছরই ভোটার হওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে যেকোনো সময় ভোটার হওয়া যাবে। এবার ভোটার যোগ্য নাগরিকের সঙ্গে যাদের বয়স ১৮ হয়নি এমন নাগরিকদের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে বয়স ১৮ বছর হলে তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, প্রথম পর্যায়ে ২৩ এপ্রিল থেকে ১৩৫টি উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২৫ হাজার ৩০৭জন নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের হার ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ।

কারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেনঃ ২০০১, ২০০২, ২০০৩ ও ২০০৪ সালের ১লা জানুয়ারির আগে যারা জন্ম গ্রহণ করেছেন তারা এবার নতুন ভোটার হিসাবে তালিকাভূক্ত হতে পারবেন। এর মধ্যে ২০০১ বা ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির আগে যাদের জন্ম ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি তাদের নিবন্ধিত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এবার প্রথমবারের ভোটার হওয়ার যোগ্য নাগিরকের পাশাপাশি যাদের বয়স ১৫ বছর হয়েছে তাদেরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এক্ষেত্রে যাদের জন্ম ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পূর্বে তাদের নিবন্ধিত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ২ জানুয়ারি ২০২১। আর যাদের জন্ম ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে তাদের নিবন্ধিত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি।

হালনাগাদ কার্যক্রমে ভোটার স্থানান্তরিত হওয়া যাবেঃ ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় এক এলাকার ভোটার অন্য এলাকায় ভোটার হিসাবে স্থানান্তরিত হতে পারবেন। এছাড়াও বিগত সময়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে যারা বাদ পড়েছিলেন নিবন্ধনের জন্য তাদেরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একইসঙ্গে হালনাগাদ চলাকালে ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। হালনাগাদ চলাকালে যে সব নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে তাদেরকে নির্ধারিত তারিখে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রে গিয়ে ছবি ও বায়োমেট্রিক দিয়ে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

ভোটার হতে হতে যেসব কাগজপত্র লাগবেঃ নতুন ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি অবশ্যই থাকতে হবে। কোন কারণে তা না থাকলে নাগরিকত্বের সনদপত্র দেখাতে হবে। এটিও দেখানো সম্ভব না হলে বাবা, মা, স্বামী/স্ত্রীর ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ফটোকপি দেখাতে হবে। এছাড়াও ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে এসএসসি পাসের সনদপত্র দেখাতে হবে (যদি থাকে)। অন্যদিকে ইউটিলিটি যেমন গ্যাসবিল, বিদ্যুৎবিল অথবা পানির বিলের ফটোকপি, বাড়ি ভাড়ার রশিদ কিংবা হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ যদি থাকে তা প্রযোজনে দেখাতে হবে। অর্থাৎ নতুন ভোটার হতে যাওয়াকে ব্যক্তিকে প্রমাণ করতে হবে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে।

প্রথমবারের মত হিজড়া পরিচয়ে ভোটার হওয়া যাবেঃ এবার ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় নারী বা পুরুষের পাশাপাশি প্রথমবারের মত হিজড়া সম্প্রদায়ের কেউ চাইলে, হিজড়া লিঙ্গ পরিচয়েও ভোটার হতে পারবেন। এর আগে হিজড়ারা নারী অথবা পুরুষ পরিচয়ে ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত হতেন। যে সব হিজড়া নারী অথবা পুরুষ পরিচয়ে ভোটার হয়েছেন, তারাও ইচ্ছা করলে নিজ নিজ উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ফরম পুরণ করে হিজড়া পরিচয়ে নতুন করে ভোটার হতে পারবেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ৮০ লাখ নতুন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এবার ভোটার তালিকায় হালনাগাদ কার্যক্রমে মোট তথ্য সংগ্রহকারী থাকবে ৫২ হাজার ৫০০ জন, সুপারভাইজার ১০ হাজার ৫০০, টেকনিক্যাল সাপোর্টে থাকবে ৬৪ জন এবং রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্র থাকবে ৭৮০ পয়েন্টে। প্রতি দুই হাজার নাগরিকের বিপরীতে একজন করে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে। পাঁচজন তথ্য সংগ্রহকারীর জন্য থাকবেন একজন সুপারভাইজার। প্রতি ৭০ জন নাগরিকের জন্য একজন করে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করা হবে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশে ভোটার রয়েছেন ১০ কোটি ৪১ লাখ ৩৮১ জন।