বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়

11
Print Friendly, PDF & Email

নিউজবি২৪ অনলাইন স্পোর্টসঃ
ভারতের ৩১৪ রানের জবাবে বাংলাদেশ ২৮৬।
এই ম্যাচকে কি প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা লড়াইয়ের সংজ্ঞায় ফেলা যায় কি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে আর লাভ কি! বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যে শেষ! এজবাস্টনে ভারতের কাছে ২৮ রানে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো বাংলাদেশ।

হ্যাঁ, এখনো গ্রুপের একটি ম্যাচ বাকি আছে। তবে ৫ জুলাই লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ম্যাচ এখন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য নেহাতই আনুষ্ঠানিকতার অন্য নাম! ভারতের কাছে হারেই সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ।

সাকিবের পারফরমেন্স এবং মুস্তাফিজের বোলিং ছাড়া এজবাস্টনে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে কোনোকিছুই বাংলাদেশের পক্ষে যায়নি। ফিল্ডিংয়ের পুরোটা সময় চরম বাজে কেটেছে। হাতের নিচ দিয়ে বল বেরিয়ে গেছে বাউন্ডারিতে। তালু গলে ক্যাচ ফস্কেছে।

আর ব্যাটিং?

এই বিভাগে সাকিব আল হাসান ও শেষের দিকে সাইফুদ্দিন ছাড়া বাকি সবাই ফেল! এই তালিকায় কয়েকজন আবার ডাঁহা ফেল! এই ফেলের শুরুটা হলো তামিম ইকবালকে দিয়ে। মোহাম্মদ সামীর বলে আগে থেকে ঠিক রাখা ঢংয়ে শটস খেলার মাশুল দিলেন তামিম। ব্যাটের কানায় বল লাগিয়ে স্ট্যাম্পে টেনে এনে বোল্ড হলেন ৩২ বলে ২২ রান তুলে। উইকেটে জমে যাওয়ার পর আউট হওয়াকে এই বিশ্বকাপে নিজের অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন তামিম।

সৌম্য সরকার যে বলে আউট হলেন, সেটা মোটেও উইকেট টেকিং কোনো ডেলিভারি ছিলো না। হাফ পিচে পড়া বল জায়গায় দাড়িয়ে খেলেন। কিন্তু সেই শটে পুরো শক্তিটা দিতে পারেননি। কাভারে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত কায়দায় ক্যাচ নেন বিরাট কোহলি।

উইকেটে সেট হওয়ার পর যখন কোনো ওপেনার আউট হন, তখন তিনি দোষ এড়াতে পারেন না। তামিম- সৌম্য দুজনেই এই ম্যাচে একই অভিযোগে অভিযুক্ত!

মুশফিকের প্রিয় শট স্লগ সুইপ। তবে এই প্রিয়’র কাছে তাকে যে কতবার উইকেট বলি দিতে হয়েছে- সেই হিসেব কি রাখেন মুশফিক?

লিটন দাস আউট হওয়ার ক্ষেত্রে তার অগ্রজদের স্টাইলকেই বেছে নিলেন। হারদিক পান্ডিয়ার স্লোয়ার বলে খেই হারালেন। মিসটাইমিং শটে ইনার সার্কেলের মধ্যে আরেকটি সহজ ক্যাচ।

মোসাদ্দেক হোসেন আউট হতে বেশি সময় নিলেন না। জাসপ্রিত বুমরার স্লোয়ারকে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে জানান দিলেন-তিনি বোল্ড!

সাব্বির রহমান যখন ব্যাট করতে নামলেন তখন ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের চাই ১৮ ওভারে ১৪২ রান। টি-টুয়েন্টির টার্গেট আর কি! কিন্তু ম্যাচের সেই আমেজ উড়ে গেলো সাকিবের আউটের সঙ্গে। হারদিক পান্ডিয়ার স্লোয়ার ‘রিড’ করতে পারেননি সাকিব। ইনার সার্কেলে আরেকটি সহজ ক্যাচ।

সাকিবের আউটের পর এই ম্যাচের গ্যালারি থেকে প্রেসবক্স; সম্ভবত বাকি পুরো ক্রিকেট দুনিয়ায় তখন একটাই অপেক্ষায়-কতো রানে হারছে বাংলাদেশ? কিন্তু সাইফুদ্দিন ও সাব্বির রহমানের ব্যাটিং হঠাৎ এই ম্যাচে উত্তেজনার আমেজ এনে দিলো। সপ্তম উইকেট জুটিতে এই দুজনের ৯.২ ওভারে ৬৬ রান ম্যাচের দৈর্ঘ্য বাড়ায়।

বুমবার তার শেষ স্পেলের দ্বিতীয় বলেই সাব্বিরকে ৩৬ রানে ফিরিয়ে দেন এবং ম্যাচের হিসেব-নিকেষ মুলত সেখানেই চুকে-বুকে গেলো!

শেষ ৩৬ বলে বাংলাদেশের জয়ের প্রয়োজন দাড়ায় ৬৪ রানের। হাতে তিন উইকেট। ভারতের শক্তিশালী এই বোলিংয়ে বিরুদ্ধে এতো বড় দাবি মেটাতে পারেনি বাংলাদেশ।
থেমে গেলো ২৮৬ রানে।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়া এই ম্যাচের সারাংশ-বাংলাদেশের বাজে ফিল্ডিং, পরিকল্পনাহীন ব্যাটিং এবং স্লোয়ার বল বুঝতে না পারার অক্ষমতা!