ভারতের বিপক্ষে টেনশন ম্যাচ আজ

15
Print Friendly, PDF & Email

নিউজবি২৪ অনলাইন স্পোর্টসঃ
সেমিফাইনালে এক পা দিয়েই রেখেছে ভারত। আর ভারতকে হারাতে পারলে সেমিফাইনালের সম্ভাবনায় ফিরবে বাংলাদেশ। এই সমীকরণে আজ এজবাস্টনে বিরাট কোহলির দলের মুখোমুখি হবেন মাশরাফি মর্তুজারা। তাপ ছড়ানো ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ৩টায়।

চলতি বিশ্বকাপে প্রথম ছয় ম্যাচের পাঁচটিই জিতেছিল ভারত। ব্যাটে-বলে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিলেন কোহলিরা। একপর্যায়ে টুর্নামেন্টের একমাত্র অপরাজিত দলও ছিল তারা। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দুটো ধাক্কা খেয়েছে কোহলির দল। এবারের আসরে সবচেয়ে দুর্বল বিবেচিত আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারতে হারতে কোনো রকমে জয় নিয়ে ফিরতে পেরেছে ভারত। আর সর্বশেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবারের আসরে প্রথম হারের স্বাদ পেয়েছেন কোহলিরা। এ ম্যাচে হারের চেয়েও ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের জয়ের চেষ্টা না করার মানসিকতা এখন ‘টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। হাতে ৫ উইকেট । মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো ফিনিশার ক্রিজে। ম্যাচ জিততে প্রয়োজন ৩০ বলে ৭১ রান। কিন্তু জয়ের কোনো চেষ্টাই করলেন না দুই হার্ডহিটার ধোনি ও কেদার যাদব। সম্মানজনক হার মেনে নিয়েই দুজনে খেলে গেলেন ৫০তম ওভারের শেষ বল পর্যন্ত।

সব মিলিয়ে ভারতীয় দলের সেই দুর্দমনীয় চেহারা এখন রঙ হারিয়েছে অনেকটাই। সেই সঙ্গে চাপের মুখে কোহলিদের নেতিবাচক মানসিকতা মাশরাফিদের মনোবল বাড়াবে সংগত কারণেই। আরো সহজ করে বললে, এই ভারতকে ধরাছোঁয়ার বাইরে ভাবার কারণ নেই।

কয়েক বছর ধরেই উপমহাদেশ ক্রিকেটে এটা নিয়মিত আলোচনার বিষয়বস্তু যে আগে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে যে উত্তাপ ছিল, এখন সেই উত্তেজনা-টেনশন বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ ঘিরে। এশিয়া কাপ ফাইনাল তো বটেই, বৈশ্বিক আসরেও নকআউট পর্বে প্রায় নিয়মিত মুখোমুখি হচ্ছে এ দুটো দল। প্রতিটি ম্যাচ ঘিরেই বাড়তি টেনশনে ভুগেছে দুই দেশের মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় বয়ে গেছে ট্রলের ঝড়। ম্যাচ শেষ হয়ে গেলেও আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জের থেকেছে অনেক দিন। এদিকে বিশ্বকাপে সাতবার ভারতের বিপক্ষে খেলেও একবারও জিততে পারেনি পাকিস্তান। আর ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডেই ভারতের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল টাইগাররা।

এক যুগ আগের সেই জয়ের টাইগাররা আজ আরো পরিণত, আরো সমীহ জাগানো নাম। ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন মাশরাফি, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। এরা সবাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক একটা স্তম্ভ। এক যুগ আগের সেই ম্যাচের ভারতীয় দলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে এবারো আছেন ধোনি। এবারের টুর্নামেন্টে মন্থর ব্যাটিংয়ের কারণে বেশ সমালোচিতও হচ্ছেন সাবেক এই ভারত অধিনায়ক।

বাংলাদেশের ম্যাচ সামনে রেখে ভারতীয় দলে পরিবর্তনের আভাস। শ্লথ ব্যাটিংয়ের কারণে সমালোচিত কেদার যাদবকে সেরা একাদশে আজ নাও দেখা যেতে পারে। স্পিনের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের, বিশেষত সাকিব-মুশফিকদের সামর্থ্যের বিষয়টা ভালোমতোই হিসাবে নিচ্ছে ভারতীয় শিবির। আগের সব ম্যাচেই দুই লেগ স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল ও কুলদীপ যাদবকে খেলিয়েছে ভারত। কিন্তু আজকের ম্যাচে ডানহাতি লেগ স্পিনার চাহালকে ছাড়াই খেলার সম্ভাবনা ভারতের। মূল একাদশে অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজার খেলাটা এক রকম নিশ্চিতই। এবারের বিশ্বকাপে এই প্রথমবারের মতো তিনজন পেসারকে খেলানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে ভারতীয় শিবিরে। জসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ সামির সঙ্গে আজ সেরা একাদশে থাকতে পারেন ভুবনেশ্বর কুমারও।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাটিং-শক্তি বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছেন দলটির কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারও। তার কথায়, ‘৭ বা ৮ নম্বরে জাদেজা ভালো ব্যাট করে। আবার টেল এন্ডারে ভুবনও ভালোই ব্যাট করে। আমরা সেরা সেরা কম্বিনেশন নিয়ে আলোচনা করছি।’

এবারের বিশ্বকাপে বিস্ময়ের পর বিস্ময় সৃষ্টি করে চলেছেন সাকিব। এখন পর্যন্ত এবারের আসরের সেরা পারফর্মার এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। কোন সাকিবকে থামাবেন, ব্যাটসম্যান না বোলার, এ হিসাব কষতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিপক্ষ শিবিরকে। আজ সাকিবের দিকে যে পুরো বাংলাদেশ তাকিয়ে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশের সেমির সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখার ম্যাচে সাকিব নিজেকে কোন উচ্চতায় তুলতে পারেন, সেটিই এখন দেখার ব্যাপার।

আর ভারতকে হারাতে হলে আগের সব ম্যাচ থেকে এ ম্যাচটা ভালো খেলতে হবে—এই মত মাশরাফির। তার ভাষায়, ‘ভারতকে হারাতে হলে সব বিভাগেই আমাদের শতভাগ দিতে হবে। আগের ম্যাচগুলোর চেয়েও আমাদের ভালো খেলতে হবে।’

সাত খেলায় ১১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে ভারত। আর সাত খেলায় ৭ পয়েন্ট পাওয়া বাংলাদেশের অবস্থান ৭ নম্বরে।