গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি মঙ্গলবার

9
Print Friendly, PDF & Email

নিউজবি২৪ অনলাইন রিপোর্টঃ
গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২ জুলাই) সারা দেশের জেলা সদর ও ঢাকার প্রতিটি থানায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

সোমবার (১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

‘বামদলের ডাকা হরতালে বিএনপি একাত্মতা প্রকাশ করবে কি না?’- এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘আমরা জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে থাকি। বাম দলের হরতাল বিষয়ে আমরা আলোচনা করে পরে জানাব’।

গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে সবক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯৬ সালেও আওয়ামী লীগ গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিল। এবারও গণবিরোধী এই সরকার গ্যাসের দাম বাড়ালো। মূলত ক্ষমতাসীনদের আত্মীয়-স্বজনদের লুটপাটের সুবিধার্থেই গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে সরকার। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কৃষি, বিদ্যুৎ, শিল্প কারখানা ও পরিবহন সেক্টরে। সীমিত আয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বে। বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, শিল্পকারখানার ওপর চাপ বাড়বে, দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিবে।

তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে কয়েক হাজার কোটি টাকা থাকা রয়েছে। এছাড়া দেশের সবগুলো রাষ্ট্রীয় গ্যাস কোম্পানি লাভজনক অবস্থানে। এরপরও সরকার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে।’

রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘এই মিডনাইট সরকার দেশের মানুষের ভোটে নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভোটে নির্বাচিত। ফলে এই দেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। ভারতে গ্যাসের দাম কমানো হয়েছে। কারণ ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতা রয়েছে। কিন্তু এই সরকার অগণতান্ত্রিক বলে জনগণের উপর স্বেচ্ছাচারিতা করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে।’

‘সরকার জনস্বার্থকে অবহেলা করে মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে দুর্নীতির মহোৎসব করছে’- এমন মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে বালিশ দুর্নীতি, কয়লা খাওয়া, পাথর খাওয়ার কথা আজকে জনগণের মুখে মুখে। এগুলোই হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের উপহার। জনগণ এই সরকারের কাছে কিছুই পায়নি।’

ক্ষমতাসীন দলের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে নৃশংস ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘দেশে এখন আইনশৃঙ্খলার চূড়ান্ত অবনতি হয়েছে। ওদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, দেশে আইনশৃঙ্খলার কোনো অবনতি হয়নি। বরগুনার রিফাত হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে তারা সবাই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত- এটা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এরপরও সরকার এসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে রসিকতা করছে।’