নিজ গ্রাম থেকে মাত্র ৮০ কিমি দূরে মারা গেলেন পথেই!

15
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্কঃ
মারা যাওয়া রণবীর সিং দিল্লির এক প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারি এজেন্ট হিসেবে চাকরি করতেন। ভারতে তার মতো হাজারো শ্রমিক এখন বেকার ও আশ্রয়হীন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ভারতজুড়ে চলছে ২১ দিনব্যাপী লকডাউন। বন্ধ আছে সকল প্রকার গণপরিবহন এবং স্বাভাবিক যান চলাচল। এই অবস্থায় রাজধানী দিল্লিসহ দেশটির বড় বড় শহরে দূরতম প্রদেশ থেকে অভিবাসী কর্মী হিসেবে কাজ করতে আসা মানুষেরা পড়েছেন বিপাকে।

আশ্রয়হীন, কর্মহীন এবং আর্থিক সংকটে জর্জরিত এসব মানুষের কাছে বাড়ি ফেরা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

তাই পায়ে হেটে হলেও নিজ বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন এমন হাজারো মানুষ। ৩৮ বছরের রণবীর সিং ছিলেন এদেরই একজন।

মধ্যপ্রদেশে মোরেনা জেলায় অবস্থিত এক গ্রামে নিজ বাড়ি ফিরতে গিয়ে ২০০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে পাড়ি দেন তিনি। রাজধানী দিল্লি থেকে গ্রামটি ৩২৬ কি.মি. দূরে অবস্থিত।

তবে শরীর এতো ধকল সয়নি রণবীরের। ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত দেহ নিয়ে তিনি উত্তর প্রদেশের আগ্রার কাছে এক মহাসড়কে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন।

এসময় স্থানীয় এক চায়ের দোকানি তাকে তুলে নিয়ে এসে চা ও বিস্কুট খেতে দেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও গরমে তখন আকস্মিক হার্ট অ্যাটাক হয় রণবীরের।

নিজ গ্রাম থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে এসে এভাবেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অভিবাসী এই শ্রমিক। খবর এনডিটিভির

গত শনিবার বিকেল নাগাদ হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিক ও কর্মীকে উত্তর প্রদেশের রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে ভিড় জমাতে দেখা গেছে। বাড়ি ফেরার তাড়া ও উৎকণ্ঠতা ছিল এদের সকলের মাঝে।

তবে মারাত্মক সংক্রামক করোনা ঠেকাতে জনসমাগম বন্ধে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ট্রেন ও আন্তঃরাজ্য বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে। এই অবস্থায় উপায়ন্তর না দেখেই অনেকেই হেটে রওনা দিচ্ছেন।

অনেক অভিবাসী শ্রমিকের সাথে তাদের স্ত্রী এবং শিশু সন্তানেরাও এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। প্রচন্ড গরমে হাঁটছেন মাইয়ের পর মাইল পথ।

এই অবস্থায় তীব্র সমালোচনা ও জন অসন্তোষের মুখে উত্তর প্রদেশ এবং দিল্লির রাজ্য সরকার আটকে পড়া মানুষদের বাড়ি পৌঁছে দিতে বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করেছে।

উত্তর প্রদেশ সরকার জানায় তারা এক হাজার বাসের ব্যবস্থা করেছে আর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরদিন্দ কেজরিওয়াল ২০০ বাস দেওয়ার কথা জানান।

এসব কিছু এমন সময় হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক করোনা মহামারির দুই মাস পড়ে ভারতজুড়ে চালু করা লকডাউন নিয়ে দেশব্যাপী অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। দেশটির অনেক বুদ্ধিজীবী সরকারের লকডাউন ঘোষণাকে আকস্মিক এবং অপরিকল্পিত বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

দেশটির গণমাধ্যমের নানা সূত্রে জানা গেছে, সরকারের পরিকল্পনাহীনতায় লকডাউনের মাঝে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্কট ঘাড়ে নিয়ে আটকা পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ।