জাতীয় দৈনিকগুলো বিক্রি বন্ধের উপক্রম, ঝুঁকছে অনলাইন মিডিয়ায়

11
Print Friendly, PDF & Email

শাহেদ হোসাইন মুবিন, কক্সবাজার:
করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলো বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়েছে। পাঠকরা অনলাইন মুখি মিডিয়ার দিকে ধাবিত হচ্ছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাবেক সদর মহকুমা পটিয়ার ছিত্র ছিলো এরকম। অথচ দেশে করোনা ভাইরাস যখন ছিলোনা তখন চট্টগ্রাম শহরে যেসব পত্রিকা পাওয়া য়েতনা পটিয়ায় সেসব পত্রিকা পাওয়া যেত।

পটিয়ার মানুষ সংবাদপত্রের উপর আস্থাশীল ছিলো বেশি। ২৮ শনিবার মার্চ সকাল ১০টায় থানার মোড়ে হকার নুরুল আলমের কাছে পটিয়া পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমদ, জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আহমদনুর, সাবেক ছাত্রনেতা ডাঃ খোরশেদ আলমসহ একাধিক পত্রিকার পাঠক দৈনিক জনতা, দৈনিক জনকন্ঠ, ইনকিলাব, নয়াদিগন্ত, ইত্তেফাক, যুগান্তর, আমাদের সময়, সংবাদ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ চায়। হকার নুরুল আলম বলেন পত্রিকা আসেনি। ২/১টি পত্রিকা ছাড়া অন্য কোন পত্রিকা নেই, তাও সে বিক্রি করে ১১টার সময় চলে গিয়েছে।

মোস্তাক আহমদ জানান, আমি দৈনিক জনতার নিয়মিত পাঠক। আজ শনিবার পত্রিকা না পেয়ে মন খারাপ। তার পিতা দৈনিক জনতা ছাড়া অন্য পত্রিকা পড়েনা। ডাঃ খোরশেদ আলম জানান, আমি ৪/৫টি পত্রিকা সংগ্রহ করে পড়ি আজ পছন্দের পত্রিকা না পেয়ে মনটা হতাশ।

সুত্রে জানা গেছে, সংবাদপত্রের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস একেবারে ঘরে ঢুকে পড়তে পারে- এরকম একটা ভীতি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের নানা প্রান্তে। ফলে একদিকে সারা দেশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা আরেকদিকে, সংক্রমণ ভীতি সংবাদপত্রের বিক্রি নামিয়ে এনেছে হকারদের। মাত্র কয়েক দিনেই ছাপানো পত্রিকার বিক্রি কমে গেছে প্রায় অর্ধেক। এ অবস্থায় শুক্রবার দেশের প্রথম সারির দৈনিক মানবজমিন মুদ্রণ সংস্করণ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

হাতে হাতে বিলি-বিক্রয় করা কাগজের পত্রিকার এমন অচলাবস্থায় অনলাইন গণমাধ্যমের ওপর আস্থা ও চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে পাঠকের।রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় হকারের মাধ্যমে আসা ছাপানো সংবাদপত্রও এড়িয়ে চলছেন অনেকে। সংক্রমণ এড়াতে নগদ টাকা, মোবাইল হ্যান্ডসেট, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের ব্যবহৃত হেলমেট, পত্রিকা ধরতে এখন সতর্কতা অবলম্বন করছে মানুষ।

যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কোনও সংক্রমিত ব্যক্তি বাণিজ্যিক পণ্যগুলোকে দূষিত করার আশঙ্কা কম থাকে এবং যে মোড়ক সরানো হয়েছে।