অভাবের তাড়নায় রোধ হচ্ছে না গ্রামের বাজার, মানুষের সমাগম

26
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রক্ট করসপন্ডেন্ট, ঠাকুরগাঁও:
অভাব ও দরিদ্রতার কারণে নির্দেশনা না মেনেই শহরের থেকে গ্রামের হাট-বাজারগুলোতে মানুষের জনসমাগম ঘটছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার লোহাগাড়া বাজারে এমন দৃশ্যই দেখা যায়।

অনেকে আবার করোনা ভাইরাসের সচেতনতা সর্ম্পকে জানলেও কোন সর্তকতা অবলম্বন না করেই মাক্স ও হ্যান্ডগ্লোবস ছাড়াই চায়ের দোকানে, বাজারে রাস্তায় জনসমাগম ঘটাচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা শহর প্রায় জনশূন্য হয়ে গেলেও জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামের বাজারগুলো, চায়ের দোকানে ও রাস্তায় জনসমাগম দেখা গেছে।
বাজারগুলোতে গিয়ে অনেকে জানান, আমরা দিন আনি দিন খাই। কাজ না করলে আমাদের সংসার চলবে কিভাবে? একদিন ব্যবসা বা কাজ না করতে পারলে আমাদের অনাহারে থাকতে হবে।

বিষয়টি সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও শহরের মানুষ সাধারণত অতিপ্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সমস্ত রাস্তাঘাট ও বাজারগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। কিন্তু কিছু গ্রামাঞ্চলে এখন আমরা সম্পূর্ণভাবে মানুষগুলোকে ঘরবন্ধি, কোয়ারাইন্টাইনে বা আইশোলিউশনের আওতায় আনতে পারিনি। এর জন্য আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এসিল্যান্ড, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে বলা হয়েছে গ্রামগুলোতে আরও বেশি করে টহল জোরদার করার। এছাড়াও সেনাবাহিনীকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারাও যেন গ্রামগুলোতে গিয়ে মানুষদের বুঝিয়ে ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দিন মজুর, খেটে খাওয়া মানুষ ও দরিদ্রদের সাহায্য-সহায়তা করার জন্য একটি তালিকা করার জন্য নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই তিনি গরিব দুঃখিদের ভীত না হয়ে সচেতনতা অবলম্বন করে নির্দেশনা মেনে ঘরে থেকে সাহসিকতার সাথে করোনা মোকাবিলা করে সকলকে সুস্থ্য থাকার আহবান করেন। তিনি বলেন, সকলে ঘরে থাকলেই আমার করোনা বিস্তার রোধ করতে পারবো।