মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতেও করোনার থাবা , আক্রান্ত ২৫

13
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্কঃ
গত বুধবার প্রথম মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রেন্টাগন থিওডর রুজভেল্টে কর্তব্যরত তিন নাবিকের দেহে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ার কথা জানায়। এরপরের দুই দিনে বাড়তেই থাকে ভাইরাসের সংক্রমণ ।

বিশ্বব্যাপী মার্কিন সামরিক আধিপত্যের প্রতিচ্ছবি দেশটির সুবিশাল বিমানবাহী রণতরীগুলো। আকারে একটি ছোটখাট শহরের সমান এসব জাহাজ পৃথিবীর যে কোনা প্রান্তে যে কোনো সময় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা করার সক্ষমতা বজায় রাখে।

তবে সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের এই স্তম্ভেও হানা দিয়েছে বিশ্ব মহামারির উৎস করোনা ভাইরাস। ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট নামক বিমানবাহী রণতরীটিতে এখন আক্রান্ত নাবিকদের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে উন্নীত হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার প্রথম মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রেন্টাগন; রুজভেল্টে কর্তব্যরত তিন নাবিকের দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ার কথা জানায়। এরপরের দুই দিনে বাড়তেই থাকে এই সংক্রমণ ।

মার্কিন নৌবাহিনী অবশ্য কোভিড-১৯ আক্রান্ত নাবিকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে। খবর সিএনএনের।

নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, রুজভেল্টে আরও কয়েক ডজন নাবিক আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা জাতীয় নিরাপত্তার বিবেচনায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশ নাও করতে পারে।

পেন্টাগনের উদ্বেগ, প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থান করা রণতরীটিতে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা জানলে উত্তর কোরিয়া এবং চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা এতে আরও সাহসী হয়ে উঠবে।

ভাইরাস সংক্রমণের পরেও যে কোনো পরিস্থিতিতে আগ্রাসী তৎপরতা চালানোর মতো সক্ষমতা জাহাজটির রয়েছে বলে জানান মার্কিন নৌবাহিনীর চিফ অব নেভাল অপারেশন্স মাইক গিলডে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত মার্কিন নৌবাহিনী মন্ত্রী থমাস মডলি রণতরীটিতে ব্যাপক আকারে সংক্রমণের কথা স্বীকার করলেও প্রকৃত সংখ্যা উল্লেখ করেননি।
এসময় তিনি বলেন, জাহাজটিতে কর্তব্যরত সকল নাবিক ও নৌসেনার করোনা টেস্ট করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের সংক্রমণ মোকাবেলায় আমরা সফল হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় আশা প্রকাশ করছি।

উল্লেখ্য থিওডর রুজভেল্টে বর্তমানে ৫ হাজার নাবিক, নৌসেনা ও যুদ্ধবিমান চালক অবস্থান করছেন।

মুডলি আরও জানান, রুজভেল্টকে প্রশান্ত মহাসাগরের মার্কিন সামরিক ঘাটি গুয়াম দ্বীপের বন্দরে অবস্থান নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে জাহাজের কোনো নাবিক গুয়ামে নামতে পারবেন না।

দুই সপ্তাহ আগে রুজভেল্ট ভিয়েতনামে ভিড়েছিল। সেখান থেকেই জাহাজটির নাবিকদের দেহে কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। জাহাজের সকল নাবিককে ধীরে ধীরে পরিবহন বিমানে করে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।