করোনা সন্দেহে কুষ্টিয়ার সেই শিশুকে পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়

34
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া:
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সন্দেহে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কুষ্টিয়ার সেই শিশুটির শারীরিক পরিস্থিতি অবনতিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হচ্ছে ঢাকায়। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল শিশুটি। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংক্রমণ সন্দেহভাজন শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজধানী ঢাকার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

গত ৯ মে শিশুটির পিতা তৌহিদ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে হোম কোয়ারেন্টিন না মেনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা করে বলে অভিযোগ।

এদিকে, আজ দুপুরে ওই শিশুর মা–বাবাসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে বাড়িতেই হোম কোয়ারেন্টিন করে রাখে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় শহরের কালিশংকরপুর এলাকার একতলা বিশিষ্ট ওই বাড়িটিও ‘লকডাউন’ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

এর আগে সাত মাস বয়সী ওই ছেলেশিশুকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার বলেন, ২৩ মার্চ শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। ওই সময় শিশুটির জ্বর, ঠান্ডা ও কাশি ছিল। ওই দিনই পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁদের কেউ বিদেশ থেকে আসেননি বা প্রবাসী কারও সংস্পর্শেও কেউ যাননি। সেসময় তাকে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। দুদিন পর আজ বৃহস্পতিবার তার শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটে। এর আগে তাকে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি আইইডিসিআরকে জানানো হয়েছে।

শিশুর পরিবারের একআত্মীয় জানান, শিশুটির বাবা ৯ মার্চ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আসেন। হোম কোয়ারেন্টিনে না থেকে তিনি পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই ছিলেন। এ তথ্য জানার পর শিশুটিকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুরে ওই প্রবাসীর বাড়িতে পুলিশ নিয়ে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন চৌধুরী। ওই প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলে পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়।

ইউএনও জুবায়ের হোসেন চৌধুরী জানান, ‘দুপুরে বাড়িটিতে লাল নিশান টাঙানোর পাশাপাশি লকডাউন করা হয়েছে।

আরএমও ডা. তাপস সরকার বলেন, শিশুটির শরীরে করোনার সব রকম উপসর্গ দেখা গেছে। তাঁকে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্ততি চলছে। সেখানে পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে, সে করোনায় আক্রান্ত কিনা। পজিটিভ এলে হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সকেও হোম কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনে দেওয়া হতে পারে।