করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মপরিকল্পনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন

35
Print Friendly, PDF & Email

জুনাইদ কবির, ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম সাংবাদিকদের জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ঠাকুরগাঁওয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশদ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেটা ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায়ে সর্বত্র কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও রোড বাজার মনিটরিং করার সময় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম জানান, করোনার প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে উপজেলা কমিটি, জেলা কমিটির সভা করেছি। যারা বিদেশ থেকে বাড়ি ফিরেছেন তারা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন কিনা সেটা সবসময় গ্রাম পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা, উপজেলার চেয়ারম্যান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সময় সময় মনিটরিং করছেন। এবং ইউনিয়নের মেম্বার, চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া আছে যে, কেউ বাইরে থেকে আসলে তারা যেন প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। যাতে তাদেরকে আমরা হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে পারি।

এছাড়াও আমরা প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টইন করার জন্য জেলা পর্যায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইসোলেশন ইউনিট করার জন্য স্বাস্থ্যবিভাগের স্বমন্বয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছে। যাতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করতে পারি সে জন্য আমরা সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

তিনি আরও জানান, সামাজিক দূরত্বের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তাই হোটেল, রেষ্টুরেন্ট, শস্পিংমলসহ যেখানে মানুষের সমাগম হয় এমন জায়গাগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো বন্ধ করার জন্য নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি ঠাকুরগাঁওবাসীকে আহ্বান করে আরও জানান, বিশেষ কোন প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন ঘর থেকে বের না হয়, নিজে সুস্থ থাকেন ও অন্যকেও সুস্থ থাকার জন্য সহায়তা করেন। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য জেলা পর্যায়ে পাঁচটি মনিটরিং টিমসহ উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও ও এসিলেন্টদের স্বমন্বয়ে বাজার মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। যেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে সেখানে আমাদের টিম মোবাইল কোর্ট পরিচালনা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। যারা কোয়ারেন্টাইনের আইন ভঙ্গ করে তাদের কেউ আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। আমরা তাদের বুঝিয়ে ঘরে রাখার ব্যবস্থা করছি।

ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে আমার আবেদন, এ পর্যন্ত জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোন রোগী পাওয়া যায়নি এবং করোনার কোন লক্ষণ কারও দেখা দেয়নি। যারা দেশের বাইরে থেকে আসছেন তারা ১৫ দিন ঘরে অবস্থান করেন। তাহলে হয়তো আমরা এ জেলাকে করোনা মুক্ত রাখতে পারবো।

এর আগে বাজার পরিদর্শনকালে বিভিন্ন দোকান পপর্যবেক্ষণ করেন এবং ব্যবসায়ীদের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি না করার মূল্যতালিকা টানার নির্দেশদেন তিনি।
এই পরিস্থিতি ধরে রাখতে সকলকে নিদের্শনা মেনে চলে জেলা প্রশাসক হিসেবে ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে সহযোগিতা আহ্বান করছি। এ সময় বাজার মনিটরিং এ ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম, আমিনুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার আব্দুল কাইয়ুম খানসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।