সারা দেশে বাড়ছে হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা

10
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
সারাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রামণ প্রতিরোধে প্রবাসীদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও (১৯ মার্চ) নতুন করে অনেককেই কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটে বিদেশ ফেরত ৩ হাজার ৩শ প্রবাসীর মধ্যে মাত্র ২৫৫ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় এরা হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। যেসব প্রবাসীদের দেশে আসার দিন ১৪ দিনের মধ্যে রয়েছে তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাগেরেহাট জেলা প্রশাসন। তবে কোন প্রবাসীরা কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা না মানলে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

এদিকে, নাটোরে নতুন আরো ৯ জনসহ ২৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এছাড়া ২ জনের হোম কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। অপরদিকে করোনা ভাইরাসের কারনে নাটোরের ঐতিহ্যবাহী প্রধান দুই স্থাপনা উত্তরা গণভবন ও নাটোর রাজবাড়ী বা রানীভবানী রাজ প্রাসাদ দর্শন বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান জানান, নাটোরে নতুন আরো ৯ জন সহ ২৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনের রাখা হলে ২ জনের হোম কোয়ারেন্টিনে সময় আজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে জেলায় বিভিন্ন দেশ ফেরত ২৭ জন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে।

কুড়িগ্রামে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন রাখা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ৩৫ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এছাড়া ৭ জনকে ১৪ দিন পার হওয়ায় তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন তুলে নেয়া হয়েছে।

হিলিতে বিদেশ ফেরত ১০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাড়িতে অবস্থান করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়ে কঠোন ব্যবস্থ্যা। এছাড়াও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলোতে বসানো হয়েছে হাত পরিষ্কারের জন্য বেসিন যেখানে পরিষ্কার হবার পর প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে দপ্তর গুলোতে।

দেশে আসা আরো ২৫ প্রবাসীকে নেত্রকোনায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ প্রদান করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বুধবার (১৮ মার্চ) পর্যন্ত নয়জন থাকলেও আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত ২৫ জন মিলিয়ে মোট ৩৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

মাত্র একসপ্তাহ আগে দেশে ফিরেছেন এমন ১শ’ ৭১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। এই জন্য তাদের বাড়িতে দিনরাত নজরদারি করছেন স্বাস্থ্যবিভাগের মাঠকর্মীরা। এদিকে, জেলার মতলব উত্তরে করোনাভাইরাস সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সৌদি ফেরত একজনের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। অন্যদিকে, জেলার হাজীগঞ্জে হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে প্রকাশ্যে চলাফেরার দায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালি ফেরত দুইজন প্রবাসীকে নগদ অর্থ জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

ফরিদপুরে বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে ৪২ জনকে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ২৩ জনকে। এদিকে ফরিদপুর স্বাস্থ্য বিভাগ ৪ হাজার ৩ জন বিদেশ ফেরতকে খুঁজতে শুরু করেছে। তাদের সকলের খোঁজ খবর এখনো স্বাস্থ্য বিভাগ জানে না। তবে তারা দিনরাত প্রশাসনকে সাথে নিয়ে কাজ করে চলছেন তাদের সন্ধানের ব্যাপারে।

রাজবাড়ীতে প্রতিদিনই বাড়ছে হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা। কোরেন্টাইনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ) পর্যন্ত ৯০ জন দাঁড়িয়েছে। এবং সেইসঙ্গে তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদেরও বাড়ির বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

শেরপুর জেলায় ২৪ ঘণ্টায় আরো নতুন করে ৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ১৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখলো জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের মধ্যে ইটালির তিনজন, চীনের একজন, সিঙ্গাপুরের একজন, ভারতের পাঁচজন, মালয়েশিয়ার একজন ও সৌদি আরবের দুইজন। তারা সবাই ফেরত প্রবাসী।

ঝালকাঠিতে বিদেশ ফেরত ৫৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৮, নলছিটি উপজেলায় ১১, রাজাপুর উপজেলায় ১৬ ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় রয়েছে ৩ জন। এরা ইতালি, ভারত, সৌদি আরব, লেবানন, সিঙ্গাপুর ও স্পেন ফেরত।

যশোরে নতুন করে আরও ৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ নিয়ে যশোরে মোট ৬৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এরা সকলেই বিদেশ ফেরত এবং বর্তমানে সুস্থ আছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

নীলফামারী জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন বিদেশ ফেরত ৫২জন ব্যক্তি। তাদের মধ্যে নীলফামারী পৌরসভা মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ এবং এক চিকিৎসক দম্পতিও হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে করোনা ভারাইস সন্দেহভাজন তিন বিদেশী নাগরিকসহ ৬৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন চীন এবং দুইজন ভারতের নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া অপর ৬৬ জনের অধিকাংশই বিদেশ ফেরত প্রবাসী বাংলাদেশী।

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে নতুন করে বিদেশ ফেরত আরও ১৬ জনকে হোম কোয়ান্টোইনে রেখেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাতটায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মোস্তফা কামাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডা. মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত রাঙামাটিতে নয়জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নতুন করে আরও ১৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই ভারত ফেরত। এ পর্যন্ত রাঙামাটিতে সর্বমোট ২৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হলো।