শ্বশুরবাড়ি থেকে ধরে এনে প্রবাসীকে আইসোলেশনে ভর্তি

18
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ৬ প্রবাসীকে আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি করেছে। তারা বুধবার (১৮ মার্চ) থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ থাকবেন। পৌর শহরের কমলপুর ও কালিপুর থেকে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে বিদেশ ফেরত এই ৬ জন প্রবাসীকে আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি করা হয়। তারা সবাই ইতালি প্রবাসী। এদের মধ্যে মুছা মিয়া নামে একজনকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে ধরে এনে আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

জানা গেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গেল সপ্তাহে বিদেশ ফেরত ৯৬ জন প্রবাসীকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে সন্দেহে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ অবস্থান করতে নিদের্শ দেয়া হয়। তারা সবাই মধ্যপ্রাচের দেশ বা করোনায় আক্রান্ত ইতালিসহ সৌদি আরব, বাহরাইন ও কুয়েত থেকে দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে ইতালি ফেরত প্রবাসীর সংখ্যা বেশি। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ অবস্থান করতে নিদের্শ দেয়া হয়। ১৪ দিন পর্যন্ত তারা ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ অবস্থানের সময় তাদেরকে স্বাস্থ্যকর্মীরা পর্যেবেক্ষণ করবেন। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে তারা অবাধে চলাফেরা করায় অভিযানে নামে উপজেলা প্রসাশন।

ফলে শহরের কালীপুর থেকে একই গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে মুছা মিয়া নামে ইতালি ফেরত প্রবাসীকে তুলে এনে আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি অন্য প্রবাসীরা হলেন- ইতালি ফেরত কালিপুরের রুবেল মিয়া, আঙ্গুর মিয়া এবং কমলপুরের তৌহিদ সরকার ও এনামুল সরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী চীন ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে মহামারীতে রূপ নেয়া করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশে সরকার নির্দেশনা হিসেবে সারাদেশের মতো ভৈরবেও উপজেলা প্রসাশন কঠোর অবস্থান রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুবনা ফারজান।

তিনি বলেন, ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ অবস্থান করা প্রবাসীরা সরকারের নির্দেশনা অমান্য করায় অভিযান শুরু হয়েছে। বিদেশ ফেরত সবাইকে আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি হতে হবে। কেউ রেহাই পাবে না। প্রয়োজনে প্রসাশন আরও কঠোর হবে। আর কেউ তা অমান্য করলে বিধি অনুযায়ী জেল ও জরিমানা করার বিধানও রয়েছে