মহামারীর হকিকত

14
Print Friendly, PDF & Email

ইসলামিক নিউজ ডেস্ক:
করোনা ভাইরাস নিয়ে আজ আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে প্রতিটি ক্ষন! ইসলাম একটি সম্পুর্ন জীবন বিধান, মহামারীর নিয়ে ইসলামে কি দিক নির্দেশনা দেয়া আছে?

হযরত আয়েশা রা. বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহামারি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ‘এটা হচ্ছে আযাব। আল্লাহ তাআলা তার যে বান্দাদের উপর ইচ্ছা তা প্রেরণ করেন। আর মুমিনদের জন্য আল্লাহ সেটিকে রহমত বানিয়ে দেন। যখন কোনো এলাকায় মহামারি দেখা দেয় আর মুমিন ব্যক্তি সবর ও সওয়াবের নিয়তে এই বিশ্বাস রেখে নিজ এলাকাতেই অবস্থান করে যে, আল্লাহ তার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া কোনো কিছুই তাকে আক্রান্ত করতে পারবে না তাহলে সে শহীদের সওয়াব লাভ করবে।-সহীহ বুখারী ১/৪৯৪

অকস্মাৎ মৃত্যুর মূল্যায়ণ:
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আকস্মিক মৃত্যু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম আল্লাহর নবী বললেন, ‘এটি ঈমানদারের জন্য স্বস্তি ও শান্তির কারণ। আর অক্ষম (পাপাচারীর) জন্য দুঃখ ও আফসোসের কারণ।’-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৪৯২৩

ফায়েদা:
এই হাদীসের ‘আজিয’ বা অক্ষম শব্দের ব্যাখ্যা অন্য হাদীসে আছে। তাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘অক্ষম ঐ ব্যক্তি, যে নিজেকে প্রবৃত্তির অনুগামী করে আর আল্লাহ সম্পর্কে অলীক আশা পোষণ করে।’

উপরের দুটো হাদীসে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, যাকে সাধারণত অশুভ মনে করা হয়। জবাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়ে দিয়েছেন যে, একই বিষয় পাত্রভেদে শুভ হতে পারে, আবার অশুভও হতে পারে। এটা নির্ভর করে ব্যক্তির বিশ্বাস ও কর্মের উপর। কাফিরের জন্য যা আযাব ঈমানদারের জন্য, তার ঈমানের গুণে তা হয়ে যেতে পারে রহমত। এই হাদীস থেকে আরো শিক্ষা পাওয়া যায যে, কোনো মুমিন-মুসলমানকে বিপদগ্রস্ত হতে দেখলে তার সম্পর্কে কু-ধারণা পোষণ করা উচিত নয়।
.
সূত্রঃ মাসিক আলকাউসার