বাংলাদেশসহ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা!

16
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ধারন করা কোভিড-১৯ এর প্রকোপ কমিয়ে আনতে সন্দেহভাজন রোগীদের পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশে জরুরি ভিত্তিতে আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে স্বাস্থ্য সংস্থাটি।

সংস্থাটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আঞ্চলিক পরিচালক পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেছেন, পরিস্থিতি দ্রুতই বদলে যাচ্ছে। ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আমাদের তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত থাইল্যান্ডে ১৭৭ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ১৩৪, ভারতে ১৪২, শ্রীলঙ্কায় ১৯, মালদ্বীপে ১৩, বাংলাদেশে ১০, নেপাল ও ভুটানে ১ জন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক বলেন, কয়েকটি দেশ পরিষ্কারভাবে সামাজিকভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটা প্রতিহত করতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা, পরীক্ষা করা, আলাদা করা, চিকিৎসা করা এবং রোগীর সংস্পর্শে যারা এসেছিল, তাদের শনাক্ত করা।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস বলেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। সে কারণে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে এবং আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস আরো বলেন, সব দেশের প্রতি আমাদের খুব সাধারণ একটি বার্তা, তা হলো– পরীক্ষা, পরীক্ষা, পরীক্ষা। সব দেশেরই উচিত সন্দেহজনক সব রোগীকে পরীক্ষা করা। চোখ বন্ধ করে থাকলে দেশগুলো এই মহামারির সঙ্গে লড়াই করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা ছাড়া সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা যাবে না।

চীনের উহান থেকে গত ডিসেম্বরে ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত বিশ্বের ১৬০টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ। মারা গেছে প্রায় আট হাজার মানুষ। গত ৩০ জানুয়ারি এই সংক্রমণকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর প্রায় দেড় মাস পর ১১ মার্চ করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করা হয়।

টেড্রোস বলেন, উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা যেসব দেশের রয়েছে, তারাও করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। কাজেই নিম্ন আয়ের দেশগুলো নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ, এসব দেশের মানুষকে এরই মধ্যে অপুষ্টি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, কাজেই করোনাভাইরাস মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত করে দ্রুত তাদের আইসোলেশন করা। এই উপায়ে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুর সফলতা পেয়েছে।