কুষ্টিয়ায় খৃষ্টান সহকর্মীকে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষকের যাবজ্জীবন

32

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ

এক খৃষ্টান সহকর্মীকে ধর্ষণের দায়ে বহুলালোচিত মামলায় নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষককে যাবজ্জীবন দিয়েছে কুষ্টিয়ার আদালত।

কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক মুন্সী মশিয়ার রহমান মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।

এছাড়া আদালত ওই প্রধান শিক্ষককে এক লাখ টাকা জরিমানাও করেছে। জরিমানা না দিলে তাকে আরও এক বছর কারাগারেই থাকতে হবে।

সাজাপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম মেহেরপুরের একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। একই জেলার মুজিবনগর উপজেলার ভবেরপাড়া গ্রামের রহমান মোল্লার ছেলে তিনি।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতের কাঠগড়ায় ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং নারী ও শিশু আদালতের বিজ্ঞ পিপি আকরাম হোসেন দুলাল মামলার নথির বরাতে জানান, শরিফুল ইসলামের সঙ্গে ২০১৬ সালের ১৩ মে মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে কুষ্টিয়ায় আসেন খৃষ্টান ওই তরুণী। তিনি ওই সময় শরিফুলের বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষিকা ছিলেন।

“কুষ্টিয়া শহরের বড় বাজার এলাকায় আল আমিন আবাসিক হোটেলে মামা-ভাগিনা পরিচয়ে পাশাপাশি দুটি কক্ষ ভাড়া নেন তারা। পরদিন সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে শরিফুল তরুণীর কক্ষে ঢুকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে না জানাতে তিনি তাকে হত্যারও হুমকি দেন।”

খৃষ্টান তরুণীটি অটোরিকশায় করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। ধর্ষক সহকর্মী প্রধান শিক্ষক শরিফুল তাকে ফেলে পালিয়েও যান।

এ ঘটনায় তরুণী কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

বিশিষ্ট আইনজীবী ও পিপি আকরাম হোসেন দুলাল বলেন, তথ্য-প্রমাণ শেষে আদালত প্রধান শিক্ষক শরিফুলকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশও দিয়েছেন আদালত।
আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, বহুলালোচিত মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমান করে ধর্ষিতার পক্ষে ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে দিনের পর দিন নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করেছেন কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু আদালতের অত্যন্ত পরিশ্রমী পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডঃ আকরাম হোসেন দুলাল।

এদিকে, আলোচিত এই মামলার রায়ে ন্যায় বিচার পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতা ওই তরুণী এবং খৃষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষজন।