‘মুক্তির মহানায়ক’ বঙ্গবন্ধুর শুভ জন্মক্ষণে বর্ণিল আতশবাজি

20
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের শুভক্ষণে বর্ণিল আতশবাজি চলেছে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। মঙ্গলবার রাত আটটা থেকে শুরু হয়ে এই অনুষ্ঠান চলে দশটা অব্দি।

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আজ ১০০ বছর পূর্ণ হতো। তার জন্মের শতবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার বছরব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বিদেশি অনেক মেহমানেরও। তবে করোনা ভাইরাস বিশ্বপরিস্থিতি আমূল পাল্টে দেয়ায় অনুষ্ঠান সীমিত করা হয়।

দেশের সব টেলিভিশন, বিদেশি টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একযোগে প্রচারিত হয় ‘মুক্তির মহানায়ক’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান। দুই ঘণ্টাব্যাপী এ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশি কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও ভাষণ দেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠে একটি কবিতাও শোনা যায়। শেখ রেহানার কণ্ঠে ছিলো মুজিববর্ষের থিম সং। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে ও ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও আতশবাজি চলে।

আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজন করা হয় আতশবাজির। বর্ণিল এই আতশবাজির আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আযম, আহমেদ হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।

বর্ণিল এই আতশবাজি দেখতে রবীন্দ্র সরোবরের চারপাশ লোকে লোকারণ্য ছিল। তারা ১০ মিনিটের এই আয়োজন উপভোগ করেন। রাত ৮টায় ফানুস উড়িয়ে এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন ওবায়দুল কাদের। এরপর একে একে অনেক ফানুস আকাশে উড়ানো হয়। এরপর শুরু হয় সেই আতশবাজির আয়োজন। আকাশে কাঁপাতে থাকে লাল নীল সবুজ রঙের আলোকছটা। প্রায় ৫ মিনিট ধরে চলে এই আতশবাজি। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জয় বাংলা স্লোগান দিতে থাকেন।

হাতিরঝিলের আকাশে ওড়ানো হয়েছে ১০০টি ফানুস। এর পরই হাতিরঝিলের এম্ফিথিয়েটারে শুরু হয় লেজার শো। লেজার শো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাতিরঝিলের আকাশ আলোকিত হতে থাকে আতশবাজির ঝলকানিতে। এ সময় আতশবাজির উজ্জ্বল আলোয় পুরো হাতিরঝিল এলাকা আলোকিত হয়ে ওঠে।

চমৎকার দৃষ্টিনন্দন এ আতশবাজি উপভোগ করেন হাতিরঝিলের পুরোটাজুড়ে থাকা শত শত দর্শনার্থী। ঝিলের পানিতে এর প্রতিচ্ছবি পড়ে তৈরি হয় এক চমৎকার পরিবেশ। হাতিরঝিলের আকাশজুড়ে আতশবাজির ঝলকানি স্মৃতিতে তুলে রাখার মতো করে উপভোগ করেছেন এখানে আগতরা।

এদিকে, রবীন্দ্র সরেবর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় আতশবাজি প্রদর্শনী হয়। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হচ্ছে পিক্সেল ম্যাপিং, সেখানে ছিলো লেজার শোও।

এদিকে, আতশবাজি উৎসব দেখার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উৎসুক জনতা ভিড় করেন৷ তবে নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে এ সংখ্যা খুবই সীমিত৷ চারপাশ ঘিরে প্রচুর মানুষ ছিল। এ উপলক্ষে বর্ণিলভাবে সাজানো হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান৷ আতশবাজি প্রদর্শন হয় স্বাধীনতা স্তম্ভের সামনে থেকে।