করোনা: ইভেন্ট বন্ধ ঘোষণা করলো দেশের অনলাইন ট্রাভেল গ্রুপগুলো

10
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ করস্পন্ডেন্ট:
মহামারি আকারে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ঠেকাতে উঠে পড়ে লেগেছে সারা বিশ্ব। কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা, প্রতিদিন আগের চেয়ে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় দেরীতে হলেও কিছু ভালো পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে ভয়ংকর ব্যপার হচ্ছে এই উপরি বন্ধ পেয়ে অনেকে বাসায় না থেকে উল্টো ভ্রমণের পরিকল্পণা করছে!

অনলাইনভিত্তিক ভ্রমণ গ্রুপগুলো দেশের পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসময় তাদের দায়িত্বশীল আচরণও করোনা ভাইরাসে ছড়িয়ে পড়া কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। এর মধ্যেই বেশ কয়েকটি ট্রাভেল গ্রুপ তাদের মার্চের সমস্ত ইভেন্ট বাতিল করে দিয়েছে। এ বছর তিন দিনের ছুটির সংখ্যা একেবারেই কম, তাই ২৬-২৮ মার্চের বন্ধেই সবচেয়ে বেশি ইভেন্ট ছিলো। স্বভাবতই অগ্রিম বেশি টাকা খরচ করেই এই দিনগুলোর জন্য আয়োজন করেছিলো তারা।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের নিরাপত্তাকে প্রধান্য দিয়ে নিজেদের যাবতীয় ক্ষতি স্বীকার করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। স্বপ্নযাত্রা ট্রাভেল গ্রুপ, ট্রিপ বিডি, কান্ট্রি ট্যুরিজম, ভবঘুরে, ঘুড়ি, Eyes on Bangladesh সহ অনেকগুলো গ্রুপই দুপুর থেকে তাদের ইভেন্ট বাতিল ঘোষণা করতে থাকে। বাণিজ্যিক এ গ্রুপগুলোর পাশাপাশি অবাণিজ্যিক গ্রুপগুলোও স্থগিত রেখেছে তাদের কার্যক্রম।

বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রাভেল গ্রুপ ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ (টিওবি) তাদের গ্রুপে এখন শুধুমাত্র ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত ও করোনা ভাইরাস সচেতনতা পোস্ট এপ্রুভ করছে। এছাড়া টিওবির হেল্প চাওয়ার গ্রুপ টিওবি হেল্প লাইনেও ভ্রমণ সংক্রান্ত সমস্ত পোস্টের এপ্রুভাল বন্ধ রেখেছে। তবে বিদেশ থেকে যারা দেশে ফিরতে চাচ্ছেন বা বিদেশে আটকা পড়েছেন তাদের সাহায্যার্থে সে সকল গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট এপ্রুভ করছে। একই ব্যবস্থা নিয়েছে সলো ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ সহ বেশ কয়েকটি গ্রুপ।

করোনার বিস্তার রোধে প্রথম কাজ হচ্ছে মানুষের চলাফেরা সীমিত করা। এই কাজটা করতে আমাদের মানুষের প্রচন্ড অনীহা দেখা যাচ্ছে। এমনকি কোয়ারাইন্টানে থাকা লোকজনকে বেড়াতে যেতে, বিয়ের দাওয়াত খেতে দেখে বা জনবহুল স্থানে যেতে দেখা যাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দয়া করে সবাই সব ধরণের ভ্রমণ থেকে যতোটা সম্ভব বিরত থাকুন। নিজে বাঁচুন ও নিজের পরিবার ও দেশের লোককেও নিরাপদে থাকতে সাহায্য করুন।