ফাঁস হলো আলোচিত ডিসি সুলতানা ও আরিফের কথোপকথন

39
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট:
কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে ঘর থেকে ধরে নিয়ে নির্যাতন ও কথিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় প্রত্যাহার করা আলোচিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন নিজের ভুল স্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি অনুতপ্ত। তাদের মধ্যকার কথপোকথনের একটি অডিও ক্লিপ গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। এতে এক পর্যায়ে আরিফের কাছে ডিসি সুলতানা পুরো ঘটনার জন্য অনুতাপ করে ক্ষমাও চান।

আরিফ জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পরই রোববার একব্যক্তির মধ্যস্থতায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন সুলতানা পারভীন। এ সময় নির্যাতিত সাংবাদিককে ডিসি সুলতানা বলেন, একটা ঘটনা ঘটে গেছে। এ জন্য আমি অনুতপ্ত, যা ঘটেছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেইখো।তুমি একটু রেস্ট নাও। একটু নিরিবিলি থাকো।

এ সময় আরিফকে মিডিয়াতে কথা না বলারও অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এখন মিডিয়াতে কথা বলো না। একটু এভয়েট করে থাকো, আল্লাহ ভরসা। ভবিষ্যৎ নিয়ে আপাতত তোমার চিন্তা করার দরকার নাই। ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তা করার কিছু নাই। আমরা তোমার পাশে থাকবো। তোমার মামলা প্রত্যাহার করে নেবো। সবকিছু একটু পজিটিভলি দেখো।

কথপোকথনের একপর্যায়ে আরিফ জানতে চান, এমন কী অপরাধ করেছেন যে তাকে এনকাউন্টারের হুমকি দেওয়া হলো। ডিসি সুলতানার জবাবে পরোক্ষভাবে নির্যাতনের ঘটনায় তিনি জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি মিলে। তিনি বলেন, আসলে এনকাউন্টারে দেওয়ার মানসিকতা আমাদের ছিল না। ওইভাবে কাউকে বলাও হয়নি।

অডিও আলাপে শোনা যায়, সাংবাদিক আরিফ তাকে চোখ বেঁধে বেধড়ক মারধর করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া চারটি কাগজ ফেরত চাইছেন। তাকে আশ্বস্ত করে ডিসি বলছেন, মোবাইল কোর্টের আদেশে তোমার সই নিয়েছে। ওটা কোর্টের কাছেই আছে। আচ্ছা ঠিক আছে, আমি নিজে কথা বলে কাগজ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবো, যদি ওরা নিয়ে থাকে। আমি তোমাকে ফেরত দেব।

আরিফকে মামলা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে বারণ করে ডিসি সুলতানা বলেন, সমস্যা নাই। তোমার মামলা প্রত্যাহার করে দেবো, একটু সময় দিও। একটা দুইটা শুনানির জন্য সময় লাগবে। তোমার চাকরির ব্যাপারটাও দেখবো। চাকরির জন্য কোনও টেনশন করো না।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে সাংবাদিক আরিফকে নির্যাতন ও ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠায় জেলা প্রশাসন। অধূমপায়ী আরিফের বিরুদ্ধে তার কাছে আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগ আনা হয়।

গণমাধ্যমে এ ঘটনার খবর প্রকাশিত হওয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সারাদেশে এ নিয়ে তোলপাড় তৈরি হয়। দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনার বিষয়টি বুঝতে পেরে রবিবার সকালে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন নিজেই কৌশলে আরিফুল ইসলামের জামিন দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদেও আলোচনা হয়। এ ঘটনার তদন্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিটিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

পরে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (আরডিসি) নাজিম উদ্দীন এবং আরো দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ডিসি সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের দাবি, কুড়িগ্রাম শহরের চল্লিশ বছরের পুরনো পুকুর সরকার বরাদ্দকৃত টাকায় পুণ:খনন ও সংস্কার করে ওই পুকুরের নাম জেলা প্রশাসক নামানুসারে ‘সুলতানা সরোবর’ করা নিয়ে একটি প্রতিবেদন জেরেই তাকে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে।