১০ জনের পাঁচজনই সংক্রমিত হয়েছেন বিদেশ ফেরতদের মাধ্যমে

13
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১০ ব্যক্তির পাঁচজনই সংক্রমিত হয়েছেন বিদেশ থেকে আসা পরিবারের সদস্যের মাধ্যমে। হোম কোয়ারেন্টাইন না মানার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এই অবস্থায় স্থানীয়ভাবে ভাইরাস সংক্রমণ রোধে আক্রান্ত দেশ থেকে আসাদের যে কোন মূল্যে কোয়ারেন্টাইন মানতে বাধ্য করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

প্রতি মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজন আক্রান্তের তথ্য জানায় আইইডিসিআর। এরপর তিন ধাপে আরো ৭ জন আক্রান্ত হওয়ার কথা জানায় সংস্থাটি।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভাইরাসটি বয়ে আনা প্রবাসীদের সংস্পর্শে আসায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন তার পরিবারের দুই শিশু ও এক নারী। এ অবস্থায় আক্রান্ত দেশ থেকে আসাদের হোম কোয়ারেন্টাইন মানার বিষয়টি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, কোয়ারেন্টাইনে থেকে ওই প্রবাসীরা ঘুরছেন, দাওয়াত খাচ্ছেন বেড়াচ্ছেন-এটা তো বিপদজনক। এটা তো উনার নাগরিক দায়িত্ব, সেটা যদি তিনি পালন না করেন, তাহলে তার পরিবার ভুক্তবোগী হবে, সমাজ ভুক্তভোগী হবে।

আইইডিসিআর-এর কারিগরী উপদেষ্টা ডা. এম মুশতাক হোসেন বলেন, আমরা যে স্বাস্থ্য উপদেশ দিচ্ছি, সেটা নিশ্চয়ই সবাই সমানভাবে শুনছেন না।
স্থানীয় পর্যায়ে সংক্রমন ঠেকাতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক তৎপরতার ওপর জোর দিলেন বিশেষজ্ঞরা।

আইইডিসিআর-এর কারিগরী উপদেষ্টা ডা. এম মুশতাক হোসেন বলেন, যে প্রতিষ্ঠানে ইতালি ফেরত কোনো ব্যক্তি যাবেন, জেনে নেওয়া উচিৎ তিনি ১৪ দিন পার করেছেন কিনা। তাকে বলতে হবে টেলিফোনে কাজ সারেন, এক মিটার দূর থেকে তার সাথে কথা বলতে হবে। একা গাড়িতে তাকে ফেরত পাঠাতে হবে।

কোয়ারেন্টিনের নির্দেশনা শতভাগ মেনে চলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইনের কঠোর প্রয়োগের তাগিদ তাদের। সেই সঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে পরিবার থেকে প্রশাসন- সবাইকেই।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, কোনো দয়ামায়া দেখানো যাবে না। এটা রাষ্ট্রিয় নিরাপত্তার বিষয়।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের সুরক্ষার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতার ওপরও জোর দিলেন তারা ।