ইউরোপে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ

7
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক:
এক দিনে পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ভয়ঙ্কর এক দিন পার করেছে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর নতুন কেন্দ্রভূমি হয়ে ওঠা ইউরোপ।

এ মহাদেশের সবচেয়ে বাজে অবস্থায় পড়া তিন দেশের মধ্যে ইতালিতে আরও ৩৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ২৪ ঘণ্টায়; মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০৯ জনে।

স্পেনে মারা গেছে আরও ৯৭ জন, সেখানে মৃত্যু হয়েছে মোট ২৮৮ জনের। আর ফ্রান্সে নতুন করে ২৯ মৃত্যুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে।

এছাড়া যুক্তরাজ্যে এক দিনে আরও ১৪ জনের প্রাণ গেছে নভেল করোনাভাইরাসে, তাতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫।   

বিবিসি লিখেছে, এই চার দেশের ক্ষেত্রেই এক দিনে এটা সর্বোচ্চ মৃত্যু। ডিসেম্বরের শেষে চীনে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভব শুরুর পর বিশ্বকেও আর এক দিনে এত মৃত্যু আরও কোনোদিন দেখতে হয়নি।   

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের অনেক দেশ সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। চলাফেরায় বিধিনিষেধ, ভ্রমণ সতর্কতা, বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টিনে থাকার বাধ্যবাধকতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার মধ্যে দেশে দেশে জনজীবন হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত।

যুক্তরাজ্যে যাদের বয়স ৭০ বছরের বেশি, তাদের ঘরে থাকতে বলা হয়েছে, কারণ বয়স্করাই এ ভাইরাসের কারণে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে।

ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক ও লুক্সেমবুর্গের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে জার্মানি। পর্তুগাল বন্ধ করেছে স্পেনের সঙ্গে সীমান্ত। 

নাগরিকদের চলাফেরায় বিধিনিষেধ দিয়েছে চেক রিপাবলিকও। সেখানে খাবার, ওষুধের মত জরুরি জিনিসপত্র কেনা এবং পেশাগত কারণ ছাড়া বাইরে বের হওয়া মানা।    

অস্ট্রিয়া সোমবার থেকে একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে। আয়ারল্যন্ডের সব পাব ২৯ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডে রোববার একদিনেই রোগীর সংখ্যা ৮০০ জন বেড়ে ২ হাজার ২০০ জনে দাঁড়িয়েছে; মৃত্যু হয়েছে মোট ১৪ জনের।

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বে চীনের পর সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রায়ছে ইতালি। সরকারি বিধিনিষেধের কারণে গত সোমবার থেকে পুরো দেশ কার্যত অবরুদ্ধ দশার মধ্যে থাকলেও আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

রোববার বিকালে জেনিভায় সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নভেল করোনাভাইরাসে ১৪১ দেশে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার মানুষ, প্রাণ গেছে ৫ হাজার ৭২০ জনের।

এরপর ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য এলাকা থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যুর যেসব খবর এসেছে, তা সমন্বয় করে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, সোমবার সকাল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৬৪০০।

এর মধ্যে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৮৬০ জন; আর চীনের বাইরে ৮৬ হাজার। চীনে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২০৮ জনের। সোমবার চীনের বাইরে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ২৪১ জন ছাড়িয়ে গেছে বলে হিসাব দিচ্ছেন জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

এই হিসাব ঠিক থাকলে এই প্রথমবারের মত চীনের বাইরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা চীনের মূল ভূখণ্ডের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেল।