করোনায় ছোট হয়ে আসছে এয়ারলাইনস গুলোর রুট

15
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
করোনা ভাইরাস আক্রান্ত দেশগুলোতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে এয়ারলাইনসগুলোর রুট। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। ফ্লাইট শিডিউল কাটছাঁট ও ওমরাহ হজ বন্ধ হওয়ায় বিপুল ক্ষতি গুনতে হবে বিমানকে। একই দশা বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোরও। তারা সিভিল এভিয়েশনের নির্ধারিত চার্জ মওকুফসহ সরকারি সহায়তা চেয়েছে।

প্রবাসী শ্রমিক ও হজকেন্দ্রিক যাতায়াতকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের রুটই দেশের এয়ারলাইনসগুলোর সবচেয়ে লাভজনক গন্তব্য। মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েত করোনাভাইরাসের কারণে বিমান চলাচল স্থগিত রাখায় এই রুটে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে, দেশি সব বিমান সংস্থার। কলকাতা, দিল্লি চেন্নাই রুটও বন্ধ।

ইউএস বাংলার বন্ধ হওয়া ৪টি রুটে ৩৪টি ফ্লাইট চলাচল করত। চায়না গোয়াংজুতেও ফ্লাইট কমেছে ৮টি। নভো এয়ারের ঢাকা কলকাতা ঢাকা রুটে প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট চলত, তা এখন বন্ধ। আর চারটি আন্তর্জাতিক রুটে সপ্তাহে ২০টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ।

এই পরিস্থিতিকে দেশের এভিয়েশনশিল্পের জন্য মহাবিপর্যয় বলে মনে করছে বেসরকারি এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। রিজেন্ট এয়ারওয়েজ প্রধান নির্বাহী ইমরান আসিফ বলেন, ‘আমাদের ফ্লাইট সংখ্যাগুলোকে কমিয়ে এনেছি। আবে এক পর্যায়ে পর এই লেভেলটা ধরে রাখা কঠিন হবে, যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়।’

ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসে উপ-মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানান, ‘আমাদের যে চার্জগুলো আছে; বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সরকার যদি সেই চার্জগুলোকে মওকুফ করে তবে এয়ারলাইন্সের পক্ষে এই মুহুর্তে সাসটেইন করা সম্ভব হবে।’

বাংলাদেশ বিমানের বন্ধ হয়ে গেছে ৯টি রুটের ১২২টি ফ্লাইট। আরও ৩টি রুটে ২০টি ফ্লাইট কমিয়ে আনা হয়েছে। এই সংস্থাটি দৈনিন্দন ব্যয় সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে। বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইনসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন জানান, ‘এ বিষয়টা সম্পূর্ণরুপে অনির্দিষ্ট. দুদিন পরই এই পরিস্থিতির উত্তোরণ ঘটতে পারে বলে আমরা আশা করছি। পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া এখানে আর কোন বিকল্প নাই।’

পরিস্থিতি যদি আর কিছুদিন এভাবেই চলে, তাহলে বিমানসংস্থাগুলোর বড় ধরনের ক্ষতি মোকাবেলা করতে হবে।