হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা কেউ পালছেন গরু কেউ ঘুরতে যাচ্ছেন শ্বশুরবাড়ি

15
Print Friendly, PDF & Email

অঅনলাইন নিউজ ডেস্ক:
মানিকগঞ্জে বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের নিজ নিজ বাসায় বিশেষ ব্যবস্থায় ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা হলেও, তারা স্বাস্থ্য-বিভাগের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এলাকায় স্বাভাবিক চলাফেরা করছেন। এতে ঝুঁকিতে পড়ছেন অন্যান্যরা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে মঙ্গলবার থেকে শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত- ৫ দিনে জেলায় মোট ২২১ জন প্রবাসীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ না থাকলেও বিদেশ ফেরত হওয়ার কারণে তাদেরকে নিজ নিজ বাসায় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ।

সম্প্রতি বিদেশ ফেরত কয়েকজনের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল তারা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা যথাযথভাবে মানছেন না। সকালে কথা হয় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাসলী গ্রামের জুয়েল রানার সঙ্গে। তিনি তিন বছর ধরে সৌদি আরব থাকছেন। বাবা খোরশেদ আলম কৃষি কাজ করেন। আর বড় ভাই সোহেল রানা পাঁচ বছর ধরে কাতার থাকেন। জুয়েল রানা ১০ দিন আগে সৌদি আরব থেকে বাড়িতে ফিরেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন বাড়িতে গিয়ে যত্নসহকারে থাকতে বলেছেন। কিছুটা মেনে চলার চেষ্টাও করছেন। কিন্তু এতদিন পরে দেশে ফিরে কারও সঙ্গে আগের মতো মিশতে পারছেন না-এটা তাকে পীড়া দিচ্ছে বলে জানান।

একই গ্রামের মোহাম্মদ আসলামও ৩ বছর ধরে সৌদি আরব থাকেন। সাতদিন ধরে তিনি বাড়িতে ফিরেছেন। তাকে দেখা গেল বাড়ির সাংসারিক কাজ করতে। গোয়ালের গরুকে খাওয়ানো, ধান শুকানো ইত্যাদি কাজ করছেন তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যর সঙ্গে।

স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন তার বাড়িতে গিয়ে নানা নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কোনও উপসর্গ না থাকায় তিনি স্বাভাবিক কাজ-কর্ম করছেন।

পাশের গ্রামের দুলাল হোসেন ১০ মার্চ দুবাই থেকে বাড়িতে ফিরেছেন। ১২ মার্চ বিকেলে তিনি তিনি তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানসহ ৬ কিলোমিটার দূরে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গেছেন বলে জানালেন তার বৃদ্ধ মা হাজিরন বেগম।

হাসলী গ্রামের বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী আবুল বাসার আব্বাসী বলেন, বারবার সচেতন করা সত্ত্বেও বিদেশ ফেরত ব্যক্তিরা যথাযথভাবে মানছেন না স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা।

উত্তর পুটাইল গ্রামের পরিবার কল্যাণ সহকারী পারভীন আক্তার বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নিচ্ছেন তারা। করোনা ভাইরাসের উপসর্গ ও তাদের করণীয় সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, করোনা প্রতিরোধে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ১৬ বেডের আইসোলেশন ইউনিট ও আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ১০০-শয্যার কোয়ারেন্টাইন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ মার্চ থেকে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তাদেরকে তাদের নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মানুষদের সার্বিক সহযোগিতায় জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের দেশে বাসা প্রবাসীদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার ২৬ জন বিদেশ ফেরত ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৬ দিনে জেলায় মোট ২৪৭ জন প্রবাসীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। করোনা প্রতিরোধে গঠিত কমিটির সদস্যরা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণে থাকা ব্যক্তিদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

তবে, হোম কোয়ারেন্টোইনে থাকা ব্যক্তিরা স্বাভাবিক চলা ফেরা করছে-এমন তথ্য তার কাছে নেই জানিয়ে তিনি বলেন, এই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে দেশপ্রেমিক সচেতন নাগরিক হিসেবে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগ একা এই কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে না। করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংক না ছড়িয়ে, বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।