করোনা ভাইরাসঃ বন্ধ করে দেয়া হলো আল-আকসা মসজিদ

9
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক:
চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আশঙ্কায় জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মুসলমানদের কাছে এটি তৃতীয় পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত। মসজিদের পাশে স্থাপিত ‘ডোম অব দ্য রক’ বা কুব্বা-তুস সাখরার দরজাও সাময়িকভাবে জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।রোববার (১৫ মার্চ) মসজিদের পরিচালক ওমর কিসওয়ানি এ তথ্য জানিয়েছেন।

রয়টার্সকে কিসওয়ানি বলেন, ইসলামি ওয়াকফ বিভাগ করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে পূর্ব সতকর্তামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পরবর্তী নোটিস না দেওয়া পর্যন্ত পবিত্র আল-আকসা মসজিদের ভেতরে নামাজ আদায় বন্ধ ঘোষণা করেছে। আল-আকসা মসজিদের বাইরে নামাজ আদায় অব্যাহত থাকবে।

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনে এ পর্যন্ত ৩৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর দখলদার ইসরায়েলে আক্রান্ত হয়েছেন ২০০ জন।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মতো সমস্যা দেখা দেয়। যার সমাধান স্বরুপ এখনো কোনো টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেনি বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। নিউমোনিয়ার মত লক্ষণ নিয়ে নতুন এ রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। তবে ধারণা করা হচ্ছে, উহানের একটি সি ফুড মার্কেটে কোনো প্রাণী থেকে এ ভাইরাস প্রথম মানুষের দেহে আসে। তারপর মানুষ থেকে ছড়াতে থাকে মানুষে।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

নভেল করোনাভাইরাস এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাই আপাতত এই রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।

বাংলাদেশের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের হট লাইন ০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০৯১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪ ও ০১৯২৭৭১১৭৮৫ এ যোগাযোগের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।