সাংবাদিক আরিফকে সাজা দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

11
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
মধ্য রাতে বাড়িতে থেকে তুলে নিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড প্রদানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ১৭ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশীদের পক্ষে আইনজীবী ইশরাত হাসান রোববার (১৫ মার্চ) জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন।

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ‘বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রশিদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হতে পারে।’

এছাড়াও রিটে ফৌজদারি কার্যবিধি, ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৫ এবং ৩৬ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে, কারাগারে থাকা আরিফুল ইসলামকে জামিন দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে এনে আরিফুল ইসলামকে মোবাইল কোর্টে ১ বছরের জেল দেয় জেলা প্রশাসন।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট আনসার সদস্যদের নিয়ে তার শহরের চড়য়া পাড়ার বাড়িতে যায়। একপর্যায়ে দরজা ভেঙে তার ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী-সন্তানের সামনেই তাকে মারধর করে ধরে নিয়ে আসে বলে জানায় তার পরিবার।

পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তার বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগে তাকে ১ বছরের কারাদণ্ড দেয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

আরিফুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অনিয়মের সংবাদ পরিবেশন ও ফেসবুকে লেখার কারনে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

এ ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। আরিফুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে সেখানকার সাংবাদিকরা মানববন্ধন করে।

ওই মানববন্ধনে আল্টিমেটাম দিয়ে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার বিরুদ্ধে আনা সব মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার করে মুক্তি না দিলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন সাংবাদিকরা।

এছাড়া, কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে বাসভবন থেকে একটি মহল তুলে নিয়ে যাওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে উল্লেখ করে যৌথ বিবৃতি দেয় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।