৪ দফা দাবীতে গ্রামীনফোন শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের লাগাতার অবরোধ (ভিডিও)

177
Print Friendly, PDF & Email


হাসান মেহেদী, ঢাকা:
গত ১০ মার্চ থেকে দেশের সর্ববৃহৎ টেলিকম অপারেটর গ্রামীনফোনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘গ্রামীনফোন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’ এর লাগাতার অবরোধ কর্মসূচী চলমান রয়েছে। আজ ১১ মার্চ এই কর্মসূচীর ২য় দিনে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সকল চলমান সমস্যা সমাধান এবং ৪ দফা দাবী নিয়ে নিউজবিটোয়েন্টিফোর ডটকম এর সাথে কথা বলেছেন, ‘গ্রামীনফোন শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক মোঃ লোকমান হোসেন’

গ্রামীনফোন শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক মোঃ লোকমান হোসেন

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ ৭ বছর যাবত শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা হচ্ছেনা, উপরন্তু ১২৬ জন শ্রমিকের ডিউটি বন্ধ করা হয়েছে এবং ৩৮ জন শ্রমিকের বেতন অন্যায় ভাবে কেটে রাখা হয়েছে। শ্রমিকদের দাবী সম্পর্কে তিনি জানান, ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত এই নয় বছরের লভ্যাংশের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা যা শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা তা প্রদান করছে না গ্রামীনফোন কর্তৃপক্ষ। একাধিকবার বৈঠকের পরে বার বার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও কোন সঠিক সমাধান দেয়া হয়নি।

সর্বশেষ ২০১৩ সালে বৈঠকের পর গ্রামীনফোন থেকে বাৎসরিক ১২% ইনক্রিমেন্টের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো, কিন্তু শ্রমিকদের দাবী প্রতিশ্রুতির এই টাকা এখনো দেয়নি কর্তৃপক্ষ। উপরন্তু ২০১৩ থেকে বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

৪ দফা দাবী আদায়ে গ্রামীনফোন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের লাগাতার অবরোধ এর ২য় দিন।

পরবর্তীতে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ কল-কারখানা অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের সাথে গ্রামীনফোনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের এবং শ্রমিকদের সাথে ৭মে ২০১৯ সালে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের দাবীগুলোকে যৌক্তিক বলে আখ্যাদেয় কল-কারখানা অধিদপ্তর। উক্ত মে মাসের মধ্যেই গ্রামীনফোনের পক্ষ্য থেকে শ্রমিকদের প্রাপ্য টাকা বিতরন করা এবং শ্রমিকদের দাবীগুলো মেনে নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

গ্রামীনফোন এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করলেও তার কোন পদক্ষেপ এখনো পর্যন্ত নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন গ্রামীনফোন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক মোঃ লোকমান হোসেন।

গ্রামীনফোন প্রধান কার্যালয়ের সামনে শ্রমিক কর্মচারীদের অবরোধ কর্মসূচী

তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ এর ৭ মে উক্ত বৈঠকের পর শ্রমিকদের দাবীগুলো নিয়ে কলকারখানা অধিদপ্তর ৩ জুলাই ২০১৯ সালে পুনরায় বৈঠকে বসেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, কলকারখানা অধিদপ্তরের আইজি, উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, শ্রম মন্ত্রনালয়ের সচিব, শ্রম প্রতীমন্ত্রী বেগম মুন্নুজাহান সুফিয়ান, গ্রামীনফোনের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, গ্রামীনফোনের ২জন লিগ্যাল এডভাইজার এবং গ্রামীনফোন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের শ্রমিক প্রতিনিধিগণ। বৈঠকে শ্রমিকদের সকল চলমান সমস্যা, দাবী-দাওয়া গ্রামীনফোন দ্রুত সমাধান করবে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া হয়।

উল্লেখিত সমস্যা গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,  ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত এই নয় বছরের লভ্যাংশের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা শ্রমিকদের মাঝে বিতরন, ১২৬ জনকে পুনরায় কর্মে বহাল রাখা এবং ৩৮ জন শ্রমিকের ২মাস ৮দিনের বেতন প্রদানসহ, শ্রমিকদের ৬ বছরের বকেয়া বেতন এবং ইনক্রিমেন্ট প্রদান নিশ্চিত করা।

৪ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে গ্রামীনফোন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ এর লাগাতার অবরোধ এর ২য় দিন।

গ্রামীনফোন শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক লোকমান হোসেন আরও জানান, শ্রম প্রতিমন্ত্রীর দেয়া এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি বিধায় আমরা পুনরায় গ্রামীনফোনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি কিন্তু তারা কোন যোগাযোগ করেনি। তারপর আমরা চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারী, আমাদের চলমান সমসা সমাধানের অনুরোধ জানিয়ে ১২ দিনের সময় দিয়ে গ্রামীনফোনের নিকট একটি চিঠি প্রদান করি কিন্তু তারা আমাদের এই শান্তিপূর্ণ আলোচনাতেও সাড়া দেয়নি।

পরবর্তীতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঘোষনা অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দরুন আমরা আমাদের সকল কর্মসূচী স্থগিত করি এবং গত ৮ ফেব্রুয়ারী থেকে আমরা আমাদের দাবী দাওয়া এবং চলমান সমস্যা সমাধানের নিমিত্তে পুনরায় শান্তিপূর্ন কর্মসূচী গ্রহন করি।

এই কর্মসূচীর আওতায় ১০ ফেব্রুয়ারী বিক্ষোভ মিছিল, ১৩ ফেব্রুয়ারী মানববন্ধন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারী প্রতীকী অনশন পালন করা হয়। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কর্মসূচীর পরেও সমস্যা সমাধানের জন্য গ্রামীনফোন কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। আহবায়ক লোকমান হোসেন জানান, পরবর্তীতে ২৪ ফেব্রুয়ারী থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত শ্রমিকদের ৪ দফা দাবী সম্বলিত এবং শ্রম মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রনালয়, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তা এবং গ্রামীনফোনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করি। পরবর্তীতে ৫ মার্চ সাংবাদিক সম্মেলন করে পুনরায় দাবী আদায়ের লক্ষ্যে কর্মসূচী গ্রহন করি।

গ্রামীনফোন প্রধান কার্যালয়ের সামনে শ্রমিক কর্মচারীদের অবরোধ কর্মসূচী

এই কর্মসূচীর আওতায় সর্বপ্রথম ৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সদর দপ্তরে ৪ দফা দাবী সম্বলিত স্মারক লিপি প্রদান, ৯ মার্চ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনশন, ১০ মার্চ থেকে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচী গ্রহন করা হয়।

শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয় তাদের এই ন্যায্য দাবী দাওয়া, চলমান সকল সমস্যার সমাধান এবং শ্রম মন্ত্রী কর্তৃক গৃহীত যৌথ সিদ্ধান্ত যতদিন না পর্যন্ত গ্রামীনফোন থেকে গ্রহন করা হবে ততদিন পর্যন্ত তাদের এই লাগাতার কর্মসূচী চলছে এবং চলবে।