পাপিয়ার ৩ কোটি টাকা বিলের উৎস খুঁজছে দুদক

11
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত বির্তকিত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া বহুলালোচিত পাঁচ তারকা হোটেল ওয়েস্টিনের কক্ষ ভাড়া, খাবার, আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ তিন কোটি টাকা কিভাবে ও কোন উৎস থেকে ব্যয় করেছেন তার উৎস খুঁজছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাপিয়া হোটেল ওয়েস্টিনে চারটি কক্ষ চার মাস ৯ দিন ভাড়া, খাবার, আনুষঙ্গিক খরচসহ মোট বিল পরিশোধ করেন ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। মূলত ওই উৎস নিয়েই চলছে দুদকের অনুসন্ধান। এরই মধ্যে কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করেছে অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদক কেবল পাপিয়ার অবৈধ সম্পদ রয়েছে কিনা সেই বিষয়টি দেখবে। আমরা দেখবে পাপিয়া তিন কোটি টাকার বিল কোথায় থেকে দিয়েছে, কী তার আয়, তার কোনো জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ আছে কিনা। অনুসন্ধান চলছে, আইন-কানুন দেখে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে না পারলে পাপিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামীর লেনদেনের বিভিন্ন তথ্য জানতে চলতি মাসের ৮ মার্চ দেশি ও বিদেশি ৫৯টি ব্যাংকের এমডি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান নির্বাহী (বিএফআইইউ) বরাবর চিঠি পাঠানো হয়।

এর আগে গত ২ মার্চ দুদকের উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজের সই করা তলবি চিঠিতে হোটেল ওয়েস্টিন থাকা ও খাওয়ার বিলের কপি, বিভিন্ন সময় হোটেল বুকিংয়ের নথিপত্র এবং কার কার নামে রুম বুকিং করা হয়েছে, সেসব বিষয় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়।

অন্যদিকে, ডোম-ইনোর এমডি বরাবর পাঠানো আরেক চিঠিতে পাপিয়ার ইন্দিরা রোডের বাসার বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ফার্মগেটের ২৮ ইন্দিরা রোডের ‘রওশন্স ডমিনো বিলিভো’ বিলাসবহুল ভবনে বসবাস করতেন। যেখানে তার ও স্বামীর নামে দুই ফ্ল্যাট রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। যার কিছু নথিপত্র দুদকে এসে পৌঁছেছে।

যদিও পাপিয়ার ২০১৯-২০ অর্থ বছরে দাখিল করা আয়কর বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি বছরে আয় দেখিয়েছেন মাত্র ৩ লাখ টাকা। আর মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

বিদেশে অর্থ পাচারসহ কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, জাল টাকার ব্যবসা ও বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পদ পাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

পাপিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর থানায় পৃথক তিনটি মামলার তদন্তে করছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এর মধ্যে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র আইনে একটি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা হয়।

২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাল টাকা বহন ও টাকা পাচারের অভিযোগে পাপিয়া ওরফে পিউসহ চারজনকে আটক করে র‌্যাব। বাকিরা হলো, পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন, সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবা।

এরপর রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডে ও নরসিংদীতে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ তাদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদের সন্ধান পায় র‌্যাব। র‌্যাবের অভিযানে ফার্মগেটে ইন্দিরা রোডে এই দম্পতির বাসা থেকে পিস্তল, গুলি ও গুলির ম্যাগজিন, বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেক, বেশ কিছু বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়।