করোনা আক্রান্ত ৬ দেশ থেকে প্রতিদিন আসছে হাজারো যাত্রী!

10
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ করস্পন্ডেন্ট, ঢাকা:
করোনাভাইরাস আক্রান্ত ছয়টি দেশ থেকে আকাশপথে এখনও প্রতিদিন দেড় সহস্রাধিক দেশি-বিদেশি যাত্রী বাংলাদেশে আসছেন। চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, থাইল্যান্ড ও ইরান থেকে সরাসরি কিংবা কানেকটিং ফ্লাইটে আগত এ সকল যাত্রীর কেউ করোনা আক্রান্ত কিনা তা জানতে বিমানবন্দরে থার্মাল ও হ্যান্ড স্ক্যানারে জ্বর মাপা (হেলথ স্ক্রিনিং) হচ্ছে।

তবে রোগতত্ত্ব ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ পেতে দুই থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ফলে এসব যাত্রীর সিংহভাগ আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মনে হলেও তাদের মাধ্যমে দেশে করোনাভাইরাস ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যেই এ ছয়টি দেশের একটি ইতালি থেকে ফেরত আসা দুজনসহ দেশে মোট তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।

করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে শাহজালালসহ তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্যকর্মকর্তারা। শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ আজ জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, বিমানবন্দরে এ ছয়টি দেশ থেকে আগত প্রত্যেক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তাদের কমপক্ষে ১৫ দিন স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি থাকার অনুরোধ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বেশিরভাগ যাত্রীই অনুরোধ রক্ষা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রোগতত্ত্ববিদ বলেন, করোনার ঝুঁকি এড়াতে অনেক আগে থেকেই আক্রান্ত এ ছয়টি দেশ থেকে গমনাগমন বন্ধ রাখার প্রয়োজন ছিল। যারা ফিরে এসেছেন তারা যদি ১৫ দিন স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি না থেকে তথ্য গোপন করেন তাহলে করোনাভাইরাস দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আইইডিসিঅিার থেকে এ ছয়টি দেশের নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। এখন পর্যন্ত এক লাখ ১০ হাজার ৫৬ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৩ হাজার ৮২৮ জন। অপরদিকে করোনায় আক্রান্ত ৬২ হাজার ২৭৬ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

বিশ্বের ১০৯টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র চীনের মূল ভূখণ্ডেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৭৩৫ এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১১৯ জনের। চীনের পর করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৮২ এবং মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের।

জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ করোনাভাইরাসের প্রকোপের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বসহকারে নিচ্ছে না। এসব দেশের স্বাস্থ্যকর্মীরাই বলছেন, তাদের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। এদিকে করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে।