বিতর্কের পর জি কে শামীমের জামিন প্রত্যাহার

15
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
অস্ত্র মামলায় বিতর্কিত ঠিকাদার জি কে শামীমের জামিন মঞ্জুর করে দেওয়া আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ রোববার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মুজিবুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আগের আদেশ প্রত্যাহার করে এ আদেশ দেন। এর ফলে ওই মামলায় জি কে শামীমের জামিন আর থাকল না।

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে আলোচিত ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় বহু টাকা, মাদক, অস্ত্র ও দেহরক্ষী নিয়ে জি কে শামীমকে গ্রেপ্তার করার ঘটনা দেশে বিরাট আলোচনার জন্ম দেয়। তাকে গ্রেপ্তার ও এ সংক্রান্ত অভিযান নিয়ে দিনের পর দিন ফলোআপ সংবাদ ছাপা হয় দেশের গণমাধ্যমগুলোতে।

তিনি আবার নতুন করে আলোচনায় আসেন গতকাল শনিবার, যখন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে জি কে শামীম এক মাস আগেই উচ্চ আদালত থেকে দুটি মামলায় জামিন পেয়েছেন, যে খবর এতদিন প্রকাশ্যেই আসেনি।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক চলার প্রেক্ষাপটে রবিবার রাষ্ট্রপক্ষ শামিমের জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন জানান হাইকোর্টে।

এই আবেদনের ভিত্তিতে, হাইকোর্ট রবিবার তার জামিন বাতিল করেন। সম্পূরক কার্যতালিকায় বিষয়টি আজ আদেশের জন্য ওঠে। শুনানি নিয়ে আদালত আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এফ আর খান। জি কে শামীমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মমতাজউদ্দিন আহমদ মেহেদী ও শওকত ওসমান।

এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় বিচারপতি মো রেজাউল হক ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক বছরের জন্য জি কে শামীমকে জামিন দেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এফ আর খান বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে জি কে শামিমের জামিন আবেদনে তথ্য গোপন করা হয়েছিল। আবেদনে তার নামের সঙ্গে জি কে শামীম নামটিও উল্লেখ করা হয়নি।

তবে জি কে শামীমের আইনজীবী মমতাজউদ্দিন মেহেদি সাংবাদিকদের বলেছেন, নিয়ম মেনেই জামিন আবেদন করা হয়েছে। হয়তো জি কে শামীম বলেই সরকার এই জামিনের বিরুদ্ধে আবেদন করেছে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি মাদক মামলায় জামিন পেয়েছিলেন জি কে শামীম। দুইদিন পরে ছয়ই ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ থেকে অস্ত্র মামলায় ছয় মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। তবে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, এই জামিনের বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না।

পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাব গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর যুবলীগের সাবেক নেতা ও ঠিকাদার জি কে শামিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে সাতজন দেহরক্ষীসহ আটক করে।

সে সময়কার ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান এবং সরকারি দলের সহযোগি সংগঠনগুলোতে শুদ্ধি অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়।

র‍্যাব সেসময় বলেছিল, টেণ্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জি কে শামীমকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে বিদেশে অর্থ পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযান চালিয়ে তারা জি কে শামীমের বাড়ি ও অফিস থেকে নগদ প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা এবং ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর বা আমানতপত্র জব্দ করেছেন। এসময় মদ ও অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।

যদিও অস্ত্রগুলোর বৈধ লাইসেন্স ছিল, কিন্তু এসব অস্ত্র দিয়ে অবৈধ কাজ হতো বলে অভিযোগ রয়েছে বলে তখন উল্লেখ করেছিল র‍্যাব।

অস্ত্র মামলায় দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, জি কে শামীম একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অবৈধ মাদক এবং জুয়ার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তাঁর সহযোগীরা উচ্চ বেতনভোগী দুষ্কর্মের সহযোগী। তাঁরা অস্ত্রের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে প্রকাশ্যে এসব অস্ত্রশস্ত্র বহন ও প্রদর্শন করেছেন। এর মাধ্যমে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে বিভিন্ন ধরনের টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসাসহ স্থানীয় বাস টার্মিনাল ও গরুর হাটবাজারে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। আসামি শামীম অস্ত্রের শর্ত ভঙ্গ করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদক ব্যবসা ও মানি লন্ডারিং করে আসছিলেন।

গত বছরের ২১ অক্টোবর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জিকে শামীমের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় শামীমের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৯ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ থাকার অভিযোগ আনা হয়।